নিউইয়র্ক ০৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মাটি-ধ্বংসাবশেষ মেরিন ড্রাইভ সড়কে, যান চলাচলে বিঘ্ন

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩৬:৪৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফের ভারী বর্ষণের কবলে পড়েছে কক্সবাজার। গত দুদিন ধরে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বর্ষণ চলছে। বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর থেকে চলা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সময়ে সড়কের কলাতলী দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ির সাগরনিবাস এলাকায় ৫-৬টি স্পটে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জাধীন কলাতলী বিট কর্মকর্তা ক্যাচিংউ মারমা।

পাহাড়ি গাছ সমেত মাটি সড়কের উপরে চলে এসে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। তবে, খবর পেয়ে মেরিন ড্রাইভ তত্বাবধানকারি সেনাবাহিনী টিম দ্রুত পদক্ষেপে মাটি সরিয়ে যান ও জন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার ভোররাত থেকেই থেমে থেমে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। ৬টার পর থেকে তা ভারী হয়ে ঝরে। এরই জেরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে গাছসহ এসে মেরিন ড্রাইভ সড়কের ওপর চলে আসে। দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি সাগরনিবাস পর্যন্ত প্রায় ৫-৬টি স্পটে এমন ঘটনা ঘটে। এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তবে, খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেন।

বন কর্মকর্তা ক্যাচিংউ মারমা জানান, পাহাড়ধসে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বেলা আড়াইটার দিকে মাটি ও অন্যান্য গাছগাছালি সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এ ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বর্ষা মৌসুমে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাহাড়ঘেঁষা অংশগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় চালক ও সাধারণ মানুষের সতর্কতার সাথে চলাচল করা উচিত।

প্রসঙ্গত, প্রায় প্রতি বর্ষাতেই মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। সড়কটি প্রশস্তকরণের করণের প্রয়োজনে পাহাড়ের পাদদেশ সমান করায় পাহাড় একপ্রকার খাড়া হয়ে আছে। টানা বর্ষণ হলে সেসব খাড়া অংশ ধ্বসে সড়কের উপরে চলে আসে। এটি মাথায় রেখে ধস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী বলে মনে করছেন স্থানীয় বোদ্ধামহল। 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাপানকে কড়া হুঁশিয়ারি কিমের বোনের, নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

লোহিত সাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবল ভারতীয় জাহাজ

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মাটি-ধ্বংসাবশেষ মেরিন ড্রাইভ সড়কে, যান চলাচলে বিঘ্ন

আপডেটের সময় : ০৭:৩৬:৪৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

ফের ভারী বর্ষণের কবলে পড়েছে কক্সবাজার। গত দুদিন ধরে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বর্ষণ চলছে। বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর থেকে চলা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সময়ে সড়কের কলাতলী দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ির সাগরনিবাস এলাকায় ৫-৬টি স্পটে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জাধীন কলাতলী বিট কর্মকর্তা ক্যাচিংউ মারমা।

পাহাড়ি গাছ সমেত মাটি সড়কের উপরে চলে এসে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। তবে, খবর পেয়ে মেরিন ড্রাইভ তত্বাবধানকারি সেনাবাহিনী টিম দ্রুত পদক্ষেপে মাটি সরিয়ে যান ও জন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার ভোররাত থেকেই থেমে থেমে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। ৬টার পর থেকে তা ভারী হয়ে ঝরে। এরই জেরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে গাছসহ এসে মেরিন ড্রাইভ সড়কের ওপর চলে আসে। দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি সাগরনিবাস পর্যন্ত প্রায় ৫-৬টি স্পটে এমন ঘটনা ঘটে। এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তবে, খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেন।

বন কর্মকর্তা ক্যাচিংউ মারমা জানান, পাহাড়ধসে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বেলা আড়াইটার দিকে মাটি ও অন্যান্য গাছগাছালি সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এ ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বর্ষা মৌসুমে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাহাড়ঘেঁষা অংশগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় চালক ও সাধারণ মানুষের সতর্কতার সাথে চলাচল করা উচিত।

প্রসঙ্গত, প্রায় প্রতি বর্ষাতেই মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। সড়কটি প্রশস্তকরণের করণের প্রয়োজনে পাহাড়ের পাদদেশ সমান করায় পাহাড় একপ্রকার খাড়া হয়ে আছে। টানা বর্ষণ হলে সেসব খাড়া অংশ ধ্বসে সড়কের উপরে চলে আসে। এটি মাথায় রেখে ধস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী বলে মনে করছেন স্থানীয় বোদ্ধামহল। 

Share this news as a Photo Card