নিউইয়র্ক ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করতোয়ার ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক ঘরবাড়ি হুমকিতে

  • আপডেটের সময় : ০৫:৫৪:১৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ১১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে শেষ সম্বলটুকুও।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর নাপিতপাড়া এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্প ও নদীতীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভাঙন আশ্রয়ণ প্রকল্পের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। নদীর তীরে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই নদী গ্রাস করছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও মানুষের জীবিকার উৎস। ফলে ঘর হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের পরিবারগুলোর।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী স্থায়ী বাসিন্দাদের বসতবাড়ি ও ফসলি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে কমছে আবাদি জমির পরিমাণ, হারিয়ে যাচ্ছে বহু বছরের গড়ে তোলা বসতি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা গোলাপি বেগম বলেন, অনেক কষ্টের পর সরকার আমাদের থাকার জন্য এই ঘর দিয়েছে। এখন সেই ঘরই হারানোর ভয় করছি। রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন নদী সবকিছু নিয়ে যায়, সেই আতঙ্কে থাকি। আমাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্প নয়, আমাদের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিও নদী গিলে খাচ্ছে। একের পর এক জমি ভেঙে যাচ্ছে। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব—সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।

আরেক বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই বুক ধড়ফড় করে। নদীর পাড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কখন যে ঘর নদীতে চলে যায়, সেই ভয় সবসময় তাড়া করে বেড়ায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতি বর্ষায় নদীর আগ্রাসনে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের পাশাপাশি আশপাশের শতাধিক বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

কুলানন্দপুর গ্রামের শহীদ আইয়ুব আলী স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের সভাপতি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, “করতোয়ার অব্যাহত ভাঙন এখন শুধু মাটি নয়, মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তাও কেড়ে নিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সরকারের নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নদীতে বিলীন হবে। পাশাপাশি নদীপাড়ের বহু পুরোনো পরিবারও ঠিকানাহীন হয়ে পড়বে।”

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ, টেকসই ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিতে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থায়ী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। খুব দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

করতোয়ার ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক ঘরবাড়ি হুমকিতে

আপডেটের সময় : ০৫:৫৪:১৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে শেষ সম্বলটুকুও।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর নাপিতপাড়া এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্প ও নদীতীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভাঙন আশ্রয়ণ প্রকল্পের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। নদীর তীরে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই নদী গ্রাস করছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও মানুষের জীবিকার উৎস। ফলে ঘর হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের পরিবারগুলোর।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী স্থায়ী বাসিন্দাদের বসতবাড়ি ও ফসলি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে কমছে আবাদি জমির পরিমাণ, হারিয়ে যাচ্ছে বহু বছরের গড়ে তোলা বসতি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা গোলাপি বেগম বলেন, অনেক কষ্টের পর সরকার আমাদের থাকার জন্য এই ঘর দিয়েছে। এখন সেই ঘরই হারানোর ভয় করছি। রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন নদী সবকিছু নিয়ে যায়, সেই আতঙ্কে থাকি। আমাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্প নয়, আমাদের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিও নদী গিলে খাচ্ছে। একের পর এক জমি ভেঙে যাচ্ছে। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব—সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।

আরেক বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই বুক ধড়ফড় করে। নদীর পাড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কখন যে ঘর নদীতে চলে যায়, সেই ভয় সবসময় তাড়া করে বেড়ায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতি বর্ষায় নদীর আগ্রাসনে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের পাশাপাশি আশপাশের শতাধিক বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

কুলানন্দপুর গ্রামের শহীদ আইয়ুব আলী স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের সভাপতি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, “করতোয়ার অব্যাহত ভাঙন এখন শুধু মাটি নয়, মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তাও কেড়ে নিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সরকারের নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নদীতে বিলীন হবে। পাশাপাশি নদীপাড়ের বহু পুরোনো পরিবারও ঠিকানাহীন হয়ে পড়বে।”

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ, টেকসই ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিতে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থায়ী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। খুব দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Share this news as a Photo Card