কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৪ জনে পৌঁছেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ন্যাশনাল ইউনিট ফর ডিসাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্টের (ইউএনজিআরডি) প্রকাশিত হিসাবের বরাতে জানানো হয়, চলতি শতাব্দীতে এটিই দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও ২৬২ জন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। হামলায় আহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৪৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৬৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির ৩২টির মধ্যে ১৫টি বিভাগের ৪৭১টি পৌরসভায় মোট ২ লাখ ৬২ হাজার ১৫৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন।
গত ১০ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমারের কাছে ভূগর্ভের প্রায় ১১০ কিলোমিটার গভীরে। তবে গভীরতা বেশি হওয়া সত্ত্বেও দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের ‘কফি অ্যাক্সিস’ ও প্রধান শহরগুলোতে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি ছড়িয়ে পড়ে।ইউএনজিআরডির তথ্যমতে, ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ হাজার ৬৬৪টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৬টি কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রধানত ক্যালি ও পেরেইরাতে ৩০২টি ভবন ধসে পড়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৪৭০টি স্কুল, ৪ হাজার ৯৭১টি কমিউনিটি সেন্টার, ৩৫২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৪৪৯টি সড়ক, ৫৮টি যানবাহন চলাচলের সেতু এবং ৫টি আঞ্চলিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্যালি ও পেরেইরার মতো শহরের বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে রেড মার্ক বা ‘বাস অযোগ্য’ লাল চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাস্তুচ্যুত হাজারও মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন। পাশাপাশি ভূমিধসে রাস্তা বন্ধ থাকায় চোকো, কালদাস ও কুইন্দিও অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে উঠতে বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে দেশকে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



















