নিউইয়র্ক ০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় ইটভাটায় যুবককে গুলি করে হত্যা

  • আপডেটের সময় : ০৭:৫৮:২৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

খুলনার রূপসায় ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায় রূপসা ব্রিকস ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত ফখরুল শেখ রূপসা উপজেলার নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে। তিনি যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই এবং রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ফখরুলের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল রূপসা ব্রিকস ইটভাটা পরিচালনা করেন। ফখরুল নিয়মিত ইটভাটা ও মাছের ঘের দেখাশোনা করতেন। মঙ্গলবার বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর পর রাতে তৈয়ব ডিউটিতে ছিলেন না।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে ভাটায় অবস্থানকালে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে অফিস কক্ষের পাশে একদল অস্ত্রধারী ফখরুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার ঘাড়ে একটি এবং ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় আরেকটি গুলি লাগে।

গুলির শব্দ ও খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফখরুলকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই ফরহাদ শেখ বলেন, ফখরুল যুবদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁদের মাছের ঘের ও ভাটার কাজ দেখাশোনা করতেন। রাতে মেয়ের ওষুধ কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভাটায় যাওয়ার কথা তাকে জানিয়েছিলেন ফখরুল।

ফরহাদ বলেন, রাত ১২টা ১১ মিনিটে ফখরুলের বন্ধু আজাদুর ফোন করে তাকে দ্রুত ভাটায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে অফিসের পাশে ফখরুলকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ শেখ বাদী হয়ে রূপসা থানায় মামলা করেছেন। তবে কারা এবং কী কারণে ফখরুলকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মালয়েশিয়ায় ৩ বাংলাদেশি হত্যা: ভাষা জটিলতায় অভিযোগ গঠন স্থগিত

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ১২

১৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

খুলনায় ইটভাটায় যুবককে গুলি করে হত্যা

আপডেটের সময় : ০৭:৫৮:২৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

খুলনার রূপসায় ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায় রূপসা ব্রিকস ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত ফখরুল শেখ রূপসা উপজেলার নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে। তিনি যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই এবং রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ফখরুলের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল রূপসা ব্রিকস ইটভাটা পরিচালনা করেন। ফখরুল নিয়মিত ইটভাটা ও মাছের ঘের দেখাশোনা করতেন। মঙ্গলবার বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর পর রাতে তৈয়ব ডিউটিতে ছিলেন না।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে ভাটায় অবস্থানকালে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে অফিস কক্ষের পাশে একদল অস্ত্রধারী ফখরুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার ঘাড়ে একটি এবং ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় আরেকটি গুলি লাগে।

গুলির শব্দ ও খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফখরুলকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই ফরহাদ শেখ বলেন, ফখরুল যুবদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁদের মাছের ঘের ও ভাটার কাজ দেখাশোনা করতেন। রাতে মেয়ের ওষুধ কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভাটায় যাওয়ার কথা তাকে জানিয়েছিলেন ফখরুল।

ফরহাদ বলেন, রাত ১২টা ১১ মিনিটে ফখরুলের বন্ধু আজাদুর ফোন করে তাকে দ্রুত ভাটায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে অফিসের পাশে ফখরুলকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ শেখ বাদী হয়ে রূপসা থানায় মামলা করেছেন। তবে কারা এবং কী কারণে ফখরুলকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Share this news as a Photo Card