নিউইয়র্ক ০৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের মেয়াদে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেটের সময় : ০১:২৯:৩৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। একই সময়ে বিদেশি নাগরিকদের যাচাই-বাছাই কঠোর করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জোরদার করেছে দেশটি। এর মধ্যেই উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি দ্বিতীয় বারের মতো স্থগিত করেছে একটি মার্কিন ফেডারেল আদালত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এমন বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে, যারা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন, নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর অধীনে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তই জাতীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত। মার্কিন ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, কমিউনিটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই অব্যাহত থাকবে। বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে ২ হাজার ৩০০টি ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এক্ষেত্রে গর্ভবতী বিদেশি নারীরা সন্তান জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। এছাড়া সোমবার দুর্নীতির অভিযোগে বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরুর ২৭ জন বর্তমান ও সাবেক লাতিন আমেরিকান কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ২ লাখ বিদেশির বি-১ ও বি-২ ব্যাবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি শুরু করে মার্কিন প্রশাসন। এসব ব্যক্তির অনেকে পরবর্তী সময় আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডো অভিযোগ করেন, ভুয়া আশ্রয়ের দাবি আইনি ফাঁকফোকরের অপব্যবহার করে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় মামলার চাপ বাড়ায়। গত আগস্টেও ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছিল পররাষ্ট্র দপ্তর। হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়া ছিল সেসব ভিসা বাতিলের অন্যতম কারণ।

১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি ফের স্থগিত:এদিকে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি দ্বিতীয় বারের মতো স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের মার্কিন জেলা জজ হেউড গিলিয়াম এই আদেশ দিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিচারক বলেছেন, এই ফি কার্যকরের আগে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন তৈরির প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের একটি জোটের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ আদেশ দেন। অক্টোবরে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফি কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় একই ফি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

গত আগস্টে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। এটি চূড়ান্ত হলে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে এই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে আইনি বিষয়টি ট্রাম্পের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে চলমান মামলার চেয়ে আলাদা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে বাজারে মজুত ডিজেল ছাড়তে যাচ্ছে ইউরোপ

ফের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও আঘাতের পরিকল্পনা ইরানের

০২ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ট্রাম্পের মেয়াদে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটের সময় : ০১:২৯:৩৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। একই সময়ে বিদেশি নাগরিকদের যাচাই-বাছাই কঠোর করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জোরদার করেছে দেশটি। এর মধ্যেই উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি দ্বিতীয় বারের মতো স্থগিত করেছে একটি মার্কিন ফেডারেল আদালত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এমন বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে, যারা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন, নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর অধীনে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তই জাতীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত। মার্কিন ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, কমিউনিটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই অব্যাহত থাকবে। বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে ২ হাজার ৩০০টি ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এক্ষেত্রে গর্ভবতী বিদেশি নারীরা সন্তান জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। এছাড়া সোমবার দুর্নীতির অভিযোগে বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরুর ২৭ জন বর্তমান ও সাবেক লাতিন আমেরিকান কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ২ লাখ বিদেশির বি-১ ও বি-২ ব্যাবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি শুরু করে মার্কিন প্রশাসন। এসব ব্যক্তির অনেকে পরবর্তী সময় আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডো অভিযোগ করেন, ভুয়া আশ্রয়ের দাবি আইনি ফাঁকফোকরের অপব্যবহার করে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় মামলার চাপ বাড়ায়। গত আগস্টেও ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছিল পররাষ্ট্র দপ্তর। হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়া ছিল সেসব ভিসা বাতিলের অন্যতম কারণ।

১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি ফের স্থগিত:এদিকে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি দ্বিতীয় বারের মতো স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের মার্কিন জেলা জজ হেউড গিলিয়াম এই আদেশ দিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিচারক বলেছেন, এই ফি কার্যকরের আগে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন তৈরির প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের একটি জোটের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ আদেশ দেন। অক্টোবরে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফি কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় একই ফি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

গত আগস্টে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। এটি চূড়ান্ত হলে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে এই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে আইনি বিষয়টি ট্রাম্পের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে চলমান মামলার চেয়ে আলাদা।

Share this news as a Photo Card