নিউইয়র্ক ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাড়াশে মেরামতকাজ শেষ না হতেই সড়কে ধস, অনিয়মের অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : ০৬:৩১:৫৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়কের মেরামত কাজ শেষ না হতেই ধস দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সড়কের দুই পাশে শোল্ডার ও স্লোপ না করায় নির্মাণাধীন সড়কটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর ১১০ জনের স্বাক্ষর করা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে লিখত অভিযোগ ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক মেরামত কাজ চলছে ঠিকাদারের ইচ্ছেমতো। সড়কের দুই পাশে সাব- বেজ তৈরি করা হয়েছে অতি নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে। স্থানীয়রা বাধা দিলেও বার বার উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে, সিডিউল মোতাবেক সড়কের দুই পাশে মাটি ফেলে তিন ফিট করে প্রশস্ত শোাল্ডার তৈরি ও স্লোপ না করায় এজিংয়ের ইট ও সড়কের মাটি ধসে খালের মধ্যে পড়ছে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে কাটাগাড়ী পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ইজিপি টেন্ডারে ১৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৫ টাকার চুক্তিমূল্যে কার্যাদেশ পান চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড ।

সরেজমিনে দেখা গেছে—সড়কের ওপর অতি নিম্নমানের খোয়া ফেলে রোলার দিয়ে পিষে দেওয়া হচ্ছে। এজিংয়ের ইট ধসে পড়েছে । সড়কের দুই পাশে শোল্ডার ও স্লেপ করা নেই। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাবনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোমিন মুজিবুল হক সমাজি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

সড়কটির মেরামত কাজের নিম্নমান নিয়ে ঠিকাদারকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন তিনি। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব চৌধুরীর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সড়ক প্রশস্তকরণসহ শক্তিশালীকরণের কাজ করা হচ্ছে। সাব-ঠিকাদার হিসাবে তারাই কাজটি করছেন। এ ব্যাপারে সাব-ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি সাব-ঠিকাদার মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক মেরামতকাজের কোন ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভুল ধরিয়ে দিলে সংশোধন করে নেব।’

তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াহাব মনির বলেন, ‘মির্জা সাইফুল ও মাহবুব চৌধুরী নামে দুই জন সাব-ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ি শিডিউল মোতাবেক কোনো কাজ করছেন না। স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ও ল্যাব টেস্ট ব্যতীত নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে সড়ক মেরামত করছেন। তারা বাধার তোয়াক্কা করে না। তদারকি করে কী হবে!

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নীতিমালা মেনে কাজ করার জন্য ১৮ বার নোটিশ করা হয়েছে ঠিকাদারকে । তারা কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না । এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান অবগত আছেন।’

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, সড়কের দুই পাশের শোল্ডার ও স্লোপ মূলত সড়কের স্থায়ীত্ব রক্ষা করে। শোল্ডার ও স্লোপ না করে সড়ক মেরামত করা হলে ধসে পড়বে এটাই খুব স্বাভাবিক । ঠিকাদার ও দুইজন সাব-ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

তাড়াশে মেরামতকাজ শেষ না হতেই সড়কে ধস, অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০৬:৩১:৫৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়কের মেরামত কাজ শেষ না হতেই ধস দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সড়কের দুই পাশে শোল্ডার ও স্লোপ না করায় নির্মাণাধীন সড়কটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর ১১০ জনের স্বাক্ষর করা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে লিখত অভিযোগ ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক মেরামত কাজ চলছে ঠিকাদারের ইচ্ছেমতো। সড়কের দুই পাশে সাব- বেজ তৈরি করা হয়েছে অতি নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে। স্থানীয়রা বাধা দিলেও বার বার উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে, সিডিউল মোতাবেক সড়কের দুই পাশে মাটি ফেলে তিন ফিট করে প্রশস্ত শোাল্ডার তৈরি ও স্লোপ না করায় এজিংয়ের ইট ও সড়কের মাটি ধসে খালের মধ্যে পড়ছে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে কাটাগাড়ী পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ইজিপি টেন্ডারে ১৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৫ টাকার চুক্তিমূল্যে কার্যাদেশ পান চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড ।

সরেজমিনে দেখা গেছে—সড়কের ওপর অতি নিম্নমানের খোয়া ফেলে রোলার দিয়ে পিষে দেওয়া হচ্ছে। এজিংয়ের ইট ধসে পড়েছে । সড়কের দুই পাশে শোল্ডার ও স্লেপ করা নেই। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাবনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোমিন মুজিবুল হক সমাজি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

সড়কটির মেরামত কাজের নিম্নমান নিয়ে ঠিকাদারকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন তিনি। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব চৌধুরীর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সড়ক প্রশস্তকরণসহ শক্তিশালীকরণের কাজ করা হচ্ছে। সাব-ঠিকাদার হিসাবে তারাই কাজটি করছেন। এ ব্যাপারে সাব-ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি সাব-ঠিকাদার মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক মেরামতকাজের কোন ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভুল ধরিয়ে দিলে সংশোধন করে নেব।’

তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াহাব মনির বলেন, ‘মির্জা সাইফুল ও মাহবুব চৌধুরী নামে দুই জন সাব-ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ি শিডিউল মোতাবেক কোনো কাজ করছেন না। স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ও ল্যাব টেস্ট ব্যতীত নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে সড়ক মেরামত করছেন। তারা বাধার তোয়াক্কা করে না। তদারকি করে কী হবে!

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নীতিমালা মেনে কাজ করার জন্য ১৮ বার নোটিশ করা হয়েছে ঠিকাদারকে । তারা কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না । এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান অবগত আছেন।’

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, সড়কের দুই পাশের শোল্ডার ও স্লোপ মূলত সড়কের স্থায়ীত্ব রক্ষা করে। শোল্ডার ও স্লোপ না করে সড়ক মেরামত করা হলে ধসে পড়বে এটাই খুব স্বাভাবিক । ঠিকাদার ও দুইজন সাব-ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Share this news as a Photo Card