নিউইয়র্ক ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে প্রেস কনফারেন্সের সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ

  • আপডেটের সময় : ০৪:৩০:১৪ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নয়া দিল্লিতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় ভারতের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতীয় ভূখণ্ডে শেখ হাসিনার এই গণমাধ্যমে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুদেরসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা। শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা এ ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ যে বাংলাদেশ আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।

বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

তবে বিবৃতিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ঢাকার একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকার এখনও কোনো সাড়া দেয়নি। এর বিপরীতে তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সুসম্পর্ক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে প্রেস কনফারেন্সের সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ

আপডেটের সময় : ০৪:৩০:১৪ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

নয়া দিল্লিতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় ভারতের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতীয় ভূখণ্ডে শেখ হাসিনার এই গণমাধ্যমে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুদেরসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা। শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা এ ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ যে বাংলাদেশ আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।

বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

তবে বিবৃতিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ঢাকার একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকার এখনও কোনো সাড়া দেয়নি। এর বিপরীতে তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সুসম্পর্ক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Share this news as a Photo Card