নিউইয়র্ক ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি মামলায় সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন ফের পেছাল

  • আপডেটের সময় : ০৬:০৯:০৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ১২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহাজাহান কবিরের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বছরের ১৭ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে ১৬ জুন আদালত সাকিব আল হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভির নিজাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে শেয়ারবাজারে কারসাজি করতেন। ধারাবাহিক ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হতো। পরে তারা ওই শেয়ার বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এভাবে চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে। এছাড়া আবুল খায়ের ওরফে হিরু শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত অর্থের মধ্যে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হিরুর নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে বলা হয়েছে, হিরুর কারসাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কারসাজির মাধ্যমে সাকিব আল হাসান ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দুর্নীতি মামলায় সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন ফের পেছাল

আপডেটের সময় : ০৬:০৯:০৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহাজাহান কবিরের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বছরের ১৭ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে ১৬ জুন আদালত সাকিব আল হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভির নিজাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে শেয়ারবাজারে কারসাজি করতেন। ধারাবাহিক ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হতো। পরে তারা ওই শেয়ার বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এভাবে চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে। এছাড়া আবুল খায়ের ওরফে হিরু শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত অর্থের মধ্যে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হিরুর নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে বলা হয়েছে, হিরুর কারসাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কারসাজির মাধ্যমে সাকিব আল হাসান ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

Share this news as a Photo Card