নিউইয়র্ক ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের চতুর্থ পুনর্মিলনী

  • আপডেটের সময় : ০৯:০৩:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
  • ৩২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের সান্নিধ্যে ফিরে যেন কৈশোরের সেই সোনালি দিনগুলোতে ফিরে গেলেন এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের (চুরাশিয়ান) সদস্যরা। গত ২৫ জুলাই শনিবার নিউইয়র্কের নান্দনিক ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার মেরিনায় অনুষ্ঠিত হলো এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচ নর্থ আমেরিকার চতুর্থ পুনর্মিলনী।

উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ থেকে দূর-দূরান্ত পাড়ি দিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ব্যাচের সদস্যরা। দীর্ঘদিন পর প্রিয় বন্ধুদের একসঙ্গে পেয়ে স্মৃতিচারণ, গল্প, আড্ডা ও খুনসুটিতে মেতে ওঠেন তারা। পরিবার-পরিজনের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় আনন্দ, আবেগ ও ভালোবাসার এক বর্ণিল মিলনমেলায়।

নদীর তীরঘেঁষা সবুজে ঘেরা ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার মেরিনার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বিকেল ৬টায় শুরু হয় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব। উদ্বোধন, স্মৃতিচারণ ও ককটেল পর্বের শুরুতে পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত। পরে মহামিলনের কনভেনর শামস চৌধুরী রুশো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।

স্মৃতিচারণ পর্বে নিউইয়র্কের চুরাশিয়ানদের পাশাপাশি কানাডা, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। কানাডা থেকে মিজান রহমান, ইমাম উদ্দিন, সোহেল মাহমুদ, মঈন তালুকদার ও মজিবুর মোল্লা; বাংলাদেশ থেকে সানোয়ার হোসেন নওরোজ, কাজী জাহাঙ্গীর কবির, ইমন শেখ ও আলীম উল্লাহ এবং শ্রীলঙ্কা থেকে হীরা ডি সেরাম বক্তব্য দেন।

এছাড়া টেক্সাসের সামু হোসাইন, ইফতেখার আলম লিটন, শাহীন শাহনাজ ও মোহাম্মদ আলী; ফ্লোরিডার টিটন মালিক, আশরাফ উদ্দিন, হাসিবুল হাসান, ইকবাল করিম ও শারমীন জামান লিপি; বোস্টনের ডা. শেখ শাহাবুদ্দিন, লাল গোলাম ফারুক ও মশিউর রহমান; পেনসিলভানিয়ার মাহফুজ শিপু ও কামরুন নাহার; নিউ জার্সির তোহেল ইসলাম, শরিফুল পারভেজ তপু, মোস্তাফুল হক টুটুল ও মোর্শেদ আহমেদ; মেরিল্যান্ডের কলিমুল্লাহ ও নির্মল গোমেজ; কানেকটিকাটের সুব্রত বণিক ও কামরুল চৌধুরী এবং জর্জিয়ার নজরুল চৌধুরী স্মৃতিচারণে অংশ নেন।

আয়োজনে ছিল বাহারি খাবারের সমৃদ্ধ আয়োজন। পাশাপাশি গান, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।

পরে সুসজ্জিত বলরুমে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মিউজিক নাইট। চুরাশিয়ানদের গর্ব দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভীনসহ নিউইয়র্কের জনপ্রিয় শিল্পী হাসান মাহমুদ, ঝুলন সেন, দীপক দাস, খালেদ সরকার, মহুয়া আহমেদ ও আলভান চৌধুরীর পরিবেশনায় সংগীত উপভোগ করেন উপস্থিতরা। কবিতা আবৃত্তি করেন আবদুল্লাহ আল মাহের, মাহফুজ শিপু ও শোয়েব মজুমদার।

পুনর্মিলনী উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় স্মারক ম্যাগাজিন ‘বন্ধু চল্ আড্ডা দিই’। এতে চুরাশিয়ানদের পরিচিতি, স্মৃতি ও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক চুরাশিয়ানের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারক উপহার ও কোট পিন।

শ্রীলঙ্কা থেকে আসা চুরাশিয়ান হীরা ডি সেরাম বলেন, “এটি শুধু একটি পুনর্মিলনী ছিল না; এটি ছিল ১৯৮৪ সালের সেই সোনালি স্কুলজীবনকে আবার নতুন করে ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন মুহূর্ত।”

কনভেনর শামস চৌধুরী রুশো বলেন, “বাফেলো, টেক্সাস ও টরন্টোর সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় নিউইয়র্কও আমাদের বন্ধুত্বের ইতিহাসে আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই বন্ধন ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও স্মৃতির টানই তাদের বারবার একত্রিত করে। পেশা, বসবাসের দেশ কিংবা জীবনের ব্যস্ততা—সবকিছুকে ছাপিয়ে পুরোনো বন্ধুত্বের শক্তিই তাদের এই মিলনমেলার মূল প্রেরণা।

দুই পর্বের পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাব্বী সৈয়দ, ইয়ার আহমেদ, আনোয়ারুল আরিফ ও মহুয়া আহমেদ। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে আগামী ২০২৭ সালের মহামিলনের ভেন্যু হিসেবে ফ্লোরিডা নির্ধারণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

নিউইয়র্কে এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের চতুর্থ পুনর্মিলনী

আপডেটের সময় : ০৯:০৩:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের সান্নিধ্যে ফিরে যেন কৈশোরের সেই সোনালি দিনগুলোতে ফিরে গেলেন এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের (চুরাশিয়ান) সদস্যরা। গত ২৫ জুলাই শনিবার নিউইয়র্কের নান্দনিক ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার মেরিনায় অনুষ্ঠিত হলো এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচ নর্থ আমেরিকার চতুর্থ পুনর্মিলনী।

উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ থেকে দূর-দূরান্ত পাড়ি দিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ব্যাচের সদস্যরা। দীর্ঘদিন পর প্রিয় বন্ধুদের একসঙ্গে পেয়ে স্মৃতিচারণ, গল্প, আড্ডা ও খুনসুটিতে মেতে ওঠেন তারা। পরিবার-পরিজনের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় আনন্দ, আবেগ ও ভালোবাসার এক বর্ণিল মিলনমেলায়।

নদীর তীরঘেঁষা সবুজে ঘেরা ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার মেরিনার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বিকেল ৬টায় শুরু হয় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব। উদ্বোধন, স্মৃতিচারণ ও ককটেল পর্বের শুরুতে পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত। পরে মহামিলনের কনভেনর শামস চৌধুরী রুশো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।

স্মৃতিচারণ পর্বে নিউইয়র্কের চুরাশিয়ানদের পাশাপাশি কানাডা, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। কানাডা থেকে মিজান রহমান, ইমাম উদ্দিন, সোহেল মাহমুদ, মঈন তালুকদার ও মজিবুর মোল্লা; বাংলাদেশ থেকে সানোয়ার হোসেন নওরোজ, কাজী জাহাঙ্গীর কবির, ইমন শেখ ও আলীম উল্লাহ এবং শ্রীলঙ্কা থেকে হীরা ডি সেরাম বক্তব্য দেন।

এছাড়া টেক্সাসের সামু হোসাইন, ইফতেখার আলম লিটন, শাহীন শাহনাজ ও মোহাম্মদ আলী; ফ্লোরিডার টিটন মালিক, আশরাফ উদ্দিন, হাসিবুল হাসান, ইকবাল করিম ও শারমীন জামান লিপি; বোস্টনের ডা. শেখ শাহাবুদ্দিন, লাল গোলাম ফারুক ও মশিউর রহমান; পেনসিলভানিয়ার মাহফুজ শিপু ও কামরুন নাহার; নিউ জার্সির তোহেল ইসলাম, শরিফুল পারভেজ তপু, মোস্তাফুল হক টুটুল ও মোর্শেদ আহমেদ; মেরিল্যান্ডের কলিমুল্লাহ ও নির্মল গোমেজ; কানেকটিকাটের সুব্রত বণিক ও কামরুল চৌধুরী এবং জর্জিয়ার নজরুল চৌধুরী স্মৃতিচারণে অংশ নেন।

আয়োজনে ছিল বাহারি খাবারের সমৃদ্ধ আয়োজন। পাশাপাশি গান, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।

পরে সুসজ্জিত বলরুমে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মিউজিক নাইট। চুরাশিয়ানদের গর্ব দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভীনসহ নিউইয়র্কের জনপ্রিয় শিল্পী হাসান মাহমুদ, ঝুলন সেন, দীপক দাস, খালেদ সরকার, মহুয়া আহমেদ ও আলভান চৌধুরীর পরিবেশনায় সংগীত উপভোগ করেন উপস্থিতরা। কবিতা আবৃত্তি করেন আবদুল্লাহ আল মাহের, মাহফুজ শিপু ও শোয়েব মজুমদার।

পুনর্মিলনী উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় স্মারক ম্যাগাজিন ‘বন্ধু চল্ আড্ডা দিই’। এতে চুরাশিয়ানদের পরিচিতি, স্মৃতি ও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক চুরাশিয়ানের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারক উপহার ও কোট পিন।

শ্রীলঙ্কা থেকে আসা চুরাশিয়ান হীরা ডি সেরাম বলেন, “এটি শুধু একটি পুনর্মিলনী ছিল না; এটি ছিল ১৯৮৪ সালের সেই সোনালি স্কুলজীবনকে আবার নতুন করে ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন মুহূর্ত।”

কনভেনর শামস চৌধুরী রুশো বলেন, “বাফেলো, টেক্সাস ও টরন্টোর সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় নিউইয়র্কও আমাদের বন্ধুত্বের ইতিহাসে আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই বন্ধন ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও স্মৃতির টানই তাদের বারবার একত্রিত করে। পেশা, বসবাসের দেশ কিংবা জীবনের ব্যস্ততা—সবকিছুকে ছাপিয়ে পুরোনো বন্ধুত্বের শক্তিই তাদের এই মিলনমেলার মূল প্রেরণা।

দুই পর্বের পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাব্বী সৈয়দ, ইয়ার আহমেদ, আনোয়ারুল আরিফ ও মহুয়া আহমেদ। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে আগামী ২০২৭ সালের মহামিলনের ভেন্যু হিসেবে ফ্লোরিডা নির্ধারণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card