নিউইয়র্ক ০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে চীনা নাগরিকের বাসায় ডাকাতি, ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

  • আপডেটের সময় : ১২:৫৫:১৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক চীনা নাগরিকের বাসভবনে ডাকাতির অভিযোগে চারজন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ২ কোটি পাকিস্তানি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) কোহসার থানা এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত চারজন ইসলামাবাদ পুলিশের বিভিন্ন জোনে কর্মরত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ওই বাড়িতে দুই চীনা নাগরিক বসবাস করছিলেন। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে গৃহকর্মীদের থাকার জায়গায় যান। তিনি দিনের বেলায় নিয়োজিত এক নিরাপত্তা রক্ষী ও এক চালককে ঘুম থেকে জাগিয়ে বাইরে নিয়ে যান। বাইরে পুলিশের একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল, যার ঘূর্ণায়মান বাতি জ্বলছিল। গাড়িতে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিলেন, যাদের মধ্যে তিনজনের গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল।

এরপর তারা রক্ষী ও চালককে গাড়িতে তুলে বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। বন্দুকধারীরা একটি জানালা দিয়ে ভবনে প্রবেশ করে দুই চীনা নাগরিককে অস্ত্রের মুখে আটকে রাখে। বিদেশি দুজন এবং তাদের দুই ভৃত্যকে ড্রয়িং রুমে আটকে রেখে তারা নগদ অর্থ লুট করে।

একজন নিরাপত্তা রক্ষী ডাকাতদের সহযোগিতা করেছেন এবং প্রথম ডাকাতকে গেট খুলে ভেতরে ঢোকার সুযোগ দিয়েছেন বলে প্রাথমিক সন্দেহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত অর্থ ডাকাতির সময় লুট হওয়া টাকার অংশ বলে ধারণা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল এবং আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ ওঠায় পুলিশি জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে।

এদিকে ইসলামাবাদ পুলিশ রাজধানীতে অপরাধ দমনে বড় ধরনের অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত দুই সপ্তাহে ৭৬৮ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ২১ কোটি ৭৫ লাখ রুপির বেশি মূল্যের চোরাই সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতি, ছিনতাই, বাসাবাড়ি ও যানবাহন চুরির সঙ্গে জড়িত ৩৩টি অপরাধী চক্রের ৮৪ সদস্যকেও আটক করা হয়েছে।

নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে ইসলামাবাদ পুলিশ। তবে সর্বশেষ ঘটনায় বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠায় অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কাবার ভাইরাল ভিডিওটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশিদের নয়: মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ

ইসরায়েলে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিম ভোটাররা

২০ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পাকিস্তানে চীনা নাগরিকের বাসায় ডাকাতি, ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেটের সময় : ১২:৫৫:১৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক চীনা নাগরিকের বাসভবনে ডাকাতির অভিযোগে চারজন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ২ কোটি পাকিস্তানি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) কোহসার থানা এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত চারজন ইসলামাবাদ পুলিশের বিভিন্ন জোনে কর্মরত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ওই বাড়িতে দুই চীনা নাগরিক বসবাস করছিলেন। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে গৃহকর্মীদের থাকার জায়গায় যান। তিনি দিনের বেলায় নিয়োজিত এক নিরাপত্তা রক্ষী ও এক চালককে ঘুম থেকে জাগিয়ে বাইরে নিয়ে যান। বাইরে পুলিশের একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল, যার ঘূর্ণায়মান বাতি জ্বলছিল। গাড়িতে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিলেন, যাদের মধ্যে তিনজনের গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল।

এরপর তারা রক্ষী ও চালককে গাড়িতে তুলে বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। বন্দুকধারীরা একটি জানালা দিয়ে ভবনে প্রবেশ করে দুই চীনা নাগরিককে অস্ত্রের মুখে আটকে রাখে। বিদেশি দুজন এবং তাদের দুই ভৃত্যকে ড্রয়িং রুমে আটকে রেখে তারা নগদ অর্থ লুট করে।

একজন নিরাপত্তা রক্ষী ডাকাতদের সহযোগিতা করেছেন এবং প্রথম ডাকাতকে গেট খুলে ভেতরে ঢোকার সুযোগ দিয়েছেন বলে প্রাথমিক সন্দেহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত অর্থ ডাকাতির সময় লুট হওয়া টাকার অংশ বলে ধারণা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল এবং আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ ওঠায় পুলিশি জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে।

এদিকে ইসলামাবাদ পুলিশ রাজধানীতে অপরাধ দমনে বড় ধরনের অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত দুই সপ্তাহে ৭৬৮ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ২১ কোটি ৭৫ লাখ রুপির বেশি মূল্যের চোরাই সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতি, ছিনতাই, বাসাবাড়ি ও যানবাহন চুরির সঙ্গে জড়িত ৩৩টি অপরাধী চক্রের ৮৪ সদস্যকেও আটক করা হয়েছে।

নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে ইসলামাবাদ পুলিশ। তবে সর্বশেষ ঘটনায় বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠায় অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

Share this news as a Photo Card