নিউইয়র্ক ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধুকে হত্যার পর নদীতে লাশ গুম, পাঁচ মাস পর মিলল ৭৭টি হাড়

  • আপডেটের সময় : ০১:৩১:১০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিখোঁজের দীর্ঘ পাঁচ মাস পর নরসুন্দা নদী থেকে এক যুবকের কঙ্কালের ৭৭টি হাড় উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ড্যান্ডি (পেস্টিং আঠা মাদক) খাওয়ার সময় কথা-কাটাকাটির জেরে বন্ধুদের পিটুনিতে ওই যুবক নিহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

নিহত যুবকের নাম সালমান (২১)। তিনি হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব (১৮) ও মাফি (১৫), মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক (৪০) এবং শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)।

পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় সালমান বাড়ি থেকে ইলিম্যান বাজারের উদ্দেশে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে পরদিন হোসেনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় সালমান ও তার বন্ধুদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও সার্বিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়।

নিখোঁজের পাঁচ মাস পার হলেও ছেলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় গতকাল শুক্রবার নিহত সালমানের বাবা ফজলুর রহমান হোসেনপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিবি পুলিশের বিশেষ টিম পাকুন্দিয়ার বিশ্বনাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ড্যান্ডি খাওয়ার সময় সালমান ও তার সহযোগীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সালমান বাঁশ দিয়ে মাফিকে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাকি চারজন সালমানের কাছ থেকে বাঁশ কেড়ে নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন।

আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের হাতিমের স্কুলের পাশে নরসুন্দা নদী থেকে সালমানের মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ ৭৭টি হাড় ও ব্যবহৃত গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরনের গেঞ্জি দেখে লাশের কঙ্কাল শনাক্ত করেন নিহতের মা সালমা।

উদ্ধার করা কঙ্কালের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার ও ডিবি পুলিশের ওসি মো. বাহার মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এনএ

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বন্ধুকে হত্যার পর নদীতে লাশ গুম, পাঁচ মাস পর মিলল ৭৭টি হাড়

আপডেটের সময় : ০১:৩১:১০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিখোঁজের দীর্ঘ পাঁচ মাস পর নরসুন্দা নদী থেকে এক যুবকের কঙ্কালের ৭৭টি হাড় উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ড্যান্ডি (পেস্টিং আঠা মাদক) খাওয়ার সময় কথা-কাটাকাটির জেরে বন্ধুদের পিটুনিতে ওই যুবক নিহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

নিহত যুবকের নাম সালমান (২১)। তিনি হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব (১৮) ও মাফি (১৫), মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক (৪০) এবং শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)।

পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় সালমান বাড়ি থেকে ইলিম্যান বাজারের উদ্দেশে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে পরদিন হোসেনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় সালমান ও তার বন্ধুদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও সার্বিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়।

নিখোঁজের পাঁচ মাস পার হলেও ছেলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় গতকাল শুক্রবার নিহত সালমানের বাবা ফজলুর রহমান হোসেনপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিবি পুলিশের বিশেষ টিম পাকুন্দিয়ার বিশ্বনাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ড্যান্ডি খাওয়ার সময় সালমান ও তার সহযোগীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সালমান বাঁশ দিয়ে মাফিকে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাকি চারজন সালমানের কাছ থেকে বাঁশ কেড়ে নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন।

আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের হাতিমের স্কুলের পাশে নরসুন্দা নদী থেকে সালমানের মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ ৭৭টি হাড় ও ব্যবহৃত গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরনের গেঞ্জি দেখে লাশের কঙ্কাল শনাক্ত করেন নিহতের মা সালমা।

উদ্ধার করা কঙ্কালের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার ও ডিবি পুলিশের ওসি মো. বাহার মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এনএ

Share this news as a Photo Card