নিউইয়র্ক ০২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশেকে সহযোগিতা করতে চায় এস্তোনিয়া, নিতে চায় কর্মী

  • আপডেটের সময় : ০৪:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এস্তোনিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আইটি বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন খাতের দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১০ আগস্ট) এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় দফার পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠকে (ফরেন অফিস কনসালটেশন) এসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) সচিব মো. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে এস্তোনিয়ার পক্ষে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের প্রধান মাতি মুর্দ। বৈঠকে উভয় পক্ষ রাজনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা (ই-আইডি), নিরাপদ তথ্য বিনিময়, উদ্ভাবন ও ই-গভর্নেন্স খাতে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এস্তোনিয়া। দেশটির একাধিক ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে বৈঠকে জানানো হয়।

জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ, আতিথেয়তা, পর্যটন এবং কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ পেশাজীবী নেওয়ার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয় বৈঠকে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এস্তোনিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (এসইজেড) বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফর ও পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিরা। এছাড়া শিক্ষা, গবেষণা, ক্রীড়া, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়। দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং শিল্প খাতে সহযোগিতাসহ ঝুলে থাকা কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পাশে থাকার সুস্পষ্ট আশ্বাস দেয় এস্তোনিয়া।

এর আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি কারিন মান্দির সঙ্গে একটি মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বাংলাদেশেকে সহযোগিতা করতে চায় এস্তোনিয়া, নিতে চায় কর্মী

আপডেটের সময় : ০৪:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এস্তোনিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আইটি বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন খাতের দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১০ আগস্ট) এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় দফার পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠকে (ফরেন অফিস কনসালটেশন) এসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) সচিব মো. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে এস্তোনিয়ার পক্ষে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের প্রধান মাতি মুর্দ। বৈঠকে উভয় পক্ষ রাজনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা (ই-আইডি), নিরাপদ তথ্য বিনিময়, উদ্ভাবন ও ই-গভর্নেন্স খাতে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এস্তোনিয়া। দেশটির একাধিক ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে বৈঠকে জানানো হয়।

জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ, আতিথেয়তা, পর্যটন এবং কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ পেশাজীবী নেওয়ার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয় বৈঠকে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এস্তোনিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (এসইজেড) বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফর ও পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিরা। এছাড়া শিক্ষা, গবেষণা, ক্রীড়া, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়। দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং শিল্প খাতে সহযোগিতাসহ ঝুলে থাকা কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পাশে থাকার সুস্পষ্ট আশ্বাস দেয় এস্তোনিয়া।

এর আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি কারিন মান্দির সঙ্গে একটি মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

Share this news as a Photo Card