নিউইয়র্ক ০৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের আসিয়ানের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে: জোট মহাসচিব

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩৭:৩৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানগত শর্ত পূরণ না করায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। জোটে বাংলাদেশ ও পিএনজির সদস্যপদ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে বলে জানিয়ে দিয়েছেন আসিয়ান জোটের মহাসচিব ।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাকার্তা গ্লোবের প্রতিবেদন অনুসারে, দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনি। ইন্দোনেশিয়া এমনকি পিএনজির পক্ষে সমর্থনও দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি মহাসচিব কাও কিম হর্ন স্পষ্ট করেছেন, জোটের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে কেবল পূর্ব তিমুরকেই নেওয়া হয়েছে। এরপর আর কোনো নতুন সদস্য যোগ হবে না।

ম্যানিলায় দশম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কাও বলেন, আমাদের জোট সম্প্রসারণ এখানেই শেষ। তিনি আরও বলেন, আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত দেশের সংখ্যা মাত্র ১১টি। এখানেই শেষ। পাপুয়া নিউ গিনি ও বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক সীমার বাইরে।

আসিয়ান চার্টারে নতুন সদস্য নেওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, দেশটিকে অবশ্যই স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত হতে হবে। ভৌগোলিক দিক থেকে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়ার অংশ, আর বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।

ঢাকা ও পোর্ট মোর্সবির সামনে এখন একমাত্র পথ হলো আসিয়ানের চার্টার সংশোধন করা। তবে এ ধরনের সংশোধনী আনতে হলে সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন। কাও বলেন, যতক্ষণ না সদস্য দেশগুলো সনদ সংশোধন করে ভূগোলের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ১১ দেশ নিয়েই আসিয়ান গঠিত থাকবে।

এ বছর অবশেষে পূর্ব তিমুর আসিয়ানের সদস্যপদ পেয়েছে। ২০১১ সাল থেকেই তারা চেষ্টা করে আসছিল। প্রক্রিয়া এত দীর্ঘ ও জটিল ছিল যে পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা একবার রসিকতা করে বলেছিলেন, আসিয়ানের দরজা পার হওয়ার চেয়ে স্বর্গে যাওয়া সহজ।

এ বছর আসিয়ানের সভাপতিত্বে ছিল মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরের সমর্থন আদায়ে ঢাকা তদবির চালিয়েছিল। অন্যদিকে পাপুয়া নিউ গিনির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ২০২৫ সালের কুয়ালালামপুর আসিয়ান বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, আমরা আমাদের এক ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিতে চাই। সেটি হলো পাপুয়া নিউ গিনি। তারা আসিয়ানে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকেই পাপুয়া নিউ গিনি আসিয়ানের পর্যবেক্ষক মর্যাদা ভোগ করছে। এর ফলে তারা জোটের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিতে পারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পাকিস্তানে বিক্ষোভস্থলের মাঝে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৭

পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বাংলাদেশের আসিয়ানের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে: জোট মহাসচিব

আপডেটের সময় : ০৭:৩৭:৩৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানগত শর্ত পূরণ না করায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। জোটে বাংলাদেশ ও পিএনজির সদস্যপদ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে বলে জানিয়ে দিয়েছেন আসিয়ান জোটের মহাসচিব ।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাকার্তা গ্লোবের প্রতিবেদন অনুসারে, দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনি। ইন্দোনেশিয়া এমনকি পিএনজির পক্ষে সমর্থনও দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি মহাসচিব কাও কিম হর্ন স্পষ্ট করেছেন, জোটের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে কেবল পূর্ব তিমুরকেই নেওয়া হয়েছে। এরপর আর কোনো নতুন সদস্য যোগ হবে না।

ম্যানিলায় দশম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কাও বলেন, আমাদের জোট সম্প্রসারণ এখানেই শেষ। তিনি আরও বলেন, আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত দেশের সংখ্যা মাত্র ১১টি। এখানেই শেষ। পাপুয়া নিউ গিনি ও বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক সীমার বাইরে।

আসিয়ান চার্টারে নতুন সদস্য নেওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, দেশটিকে অবশ্যই স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত হতে হবে। ভৌগোলিক দিক থেকে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়ার অংশ, আর বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।

ঢাকা ও পোর্ট মোর্সবির সামনে এখন একমাত্র পথ হলো আসিয়ানের চার্টার সংশোধন করা। তবে এ ধরনের সংশোধনী আনতে হলে সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন। কাও বলেন, যতক্ষণ না সদস্য দেশগুলো সনদ সংশোধন করে ভূগোলের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ১১ দেশ নিয়েই আসিয়ান গঠিত থাকবে।

এ বছর অবশেষে পূর্ব তিমুর আসিয়ানের সদস্যপদ পেয়েছে। ২০১১ সাল থেকেই তারা চেষ্টা করে আসছিল। প্রক্রিয়া এত দীর্ঘ ও জটিল ছিল যে পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা একবার রসিকতা করে বলেছিলেন, আসিয়ানের দরজা পার হওয়ার চেয়ে স্বর্গে যাওয়া সহজ।

এ বছর আসিয়ানের সভাপতিত্বে ছিল মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরের সমর্থন আদায়ে ঢাকা তদবির চালিয়েছিল। অন্যদিকে পাপুয়া নিউ গিনির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ২০২৫ সালের কুয়ালালামপুর আসিয়ান বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, আমরা আমাদের এক ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিতে চাই। সেটি হলো পাপুয়া নিউ গিনি। তারা আসিয়ানে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকেই পাপুয়া নিউ গিনি আসিয়ানের পর্যবেক্ষক মর্যাদা ভোগ করছে। এর ফলে তারা জোটের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিতে পারে।

Share this news as a Photo Card