নিউইয়র্ক ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে পুরোপুরি বন্ধ নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি

  • আপডেটের সময় : ১০:৫০:০৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভোটেকোশি নদী ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার ফলে নেপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করলেও এই বিপর্যয়ের পর তা কমে ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানান, গত ২৬ আগস্টের বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলিমে এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং এর বিকল্প হিসেবে অন্য কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য ভারতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির এই সংযোগটি সম্প্রতি শুরু হয়েছিল, যার বিনিময়ে নেপাল মার্কিন ডলারে অর্থ পেত। বন্যার কারণে অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং সানজেন, আপার সানজেন ও সালাসুনগি কেন্দ্রগুলোকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বন্যার পাশাপাশি ভারতীয় অনুমোদন নবায়ন না হওয়ায় আরও ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না নেপাল। আপার চামেলিয়া, সেতি রিভার এবং আপার তাদি খোলা প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হলেও ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি তা এখনও নবায়ন করেনি।

এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হলেও সঞ্চালন সক্ষমতার অভাবে ভারত তাতে সায় দেয়নি। চীনের বিনিয়োগ, ঠিকাদার বা সরঞ্জাম যুক্ত থাকা কেন্দ্রগুলো থেকেও বিদ্যুৎ ক্রয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে ভারত, যার বড় উদাহরণ ৪৫৬ মেগাওয়াটের আপার তামাকোশি প্রকল্প।

নেপালের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী কুলমান ঘিসিং জানান, বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নিশ্চিত ও নবায়নের জন্য কূটনৈতিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা জোরদার করা প্রয়োজন। 

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেপাল ভারতে ও বাংলাদেশে ২৯ দশমিক ৩২ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল, যেখানে শুষ্ক মৌসুমে আমদানির পরও দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ১৯ দশমিক ০৯ বিলিয়ন রুপি।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশে পুরোপুরি বন্ধ নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি

আমরা যখন চাই, তখনই হামলা চালাতে প্রস্তুত: ট্রাম্প

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বাংলাদেশে পুরোপুরি বন্ধ নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি

আপডেটের সময় : ১০:৫০:০৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোটেকোশি নদী ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার ফলে নেপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করলেও এই বিপর্যয়ের পর তা কমে ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানান, গত ২৬ আগস্টের বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলিমে এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং এর বিকল্প হিসেবে অন্য কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য ভারতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির এই সংযোগটি সম্প্রতি শুরু হয়েছিল, যার বিনিময়ে নেপাল মার্কিন ডলারে অর্থ পেত। বন্যার কারণে অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং সানজেন, আপার সানজেন ও সালাসুনগি কেন্দ্রগুলোকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বন্যার পাশাপাশি ভারতীয় অনুমোদন নবায়ন না হওয়ায় আরও ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না নেপাল। আপার চামেলিয়া, সেতি রিভার এবং আপার তাদি খোলা প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হলেও ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি তা এখনও নবায়ন করেনি।

এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হলেও সঞ্চালন সক্ষমতার অভাবে ভারত তাতে সায় দেয়নি। চীনের বিনিয়োগ, ঠিকাদার বা সরঞ্জাম যুক্ত থাকা কেন্দ্রগুলো থেকেও বিদ্যুৎ ক্রয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে ভারত, যার বড় উদাহরণ ৪৫৬ মেগাওয়াটের আপার তামাকোশি প্রকল্প।

নেপালের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী কুলমান ঘিসিং জানান, বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নিশ্চিত ও নবায়নের জন্য কূটনৈতিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা জোরদার করা প্রয়োজন। 

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেপাল ভারতে ও বাংলাদেশে ২৯ দশমিক ৩২ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল, যেখানে শুষ্ক মৌসুমে আমদানির পরও দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ১৯ দশমিক ০৯ বিলিয়ন রুপি।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

Share this news as a Photo Card