সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে আটকে পড়া পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ জন যাত্রী বিকল্প পথে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কাতার হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। দেশে ফিরতে প্রত্যেককে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা বিমানভাড়া গুনতে হয়েছে।
ওমরাহযাত্রীদের দলের মোয়াল্লেম মোহাম্মদ রায়হান জানান, মঙ্গলবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। দুই দিন অপেক্ষার পর কাতার এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে বিকল্প পথে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।
নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে না পারায় সৌদি আরবে থাকার ব্যবস্থা নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। রায়হান বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের থাকার জন্য আগে থেকে চুক্তি করা ছিল। এরপর নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন। এ সময় কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগর সরদার জানান, মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে জনপ্রতি অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা খরচ করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেন তারা।
ওমরাহযাত্রী জায়েদ আল-সামি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় সৌদি আরবের মদিনা বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তারা যাত্রা শুরু করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাংলাদেশে পৌঁছান।
ঈশ্বরদীর সাঁড়া গোপালপুর বকশিরচকের শাহ্ পাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন শাহ্ বলেন, ৫০ জনের ওই দলে ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী কয়েকজন নারী-পুরুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে থাকা স্বজনেরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সবাই নিরাপদে দেশে ফেরায় এখন স্বস্তি ফিরেছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।


























