নিউইয়র্ক ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে গ্রিনকার্ড দেয়ার অভিযোগে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার ১১

  • আপডেটের সময় : ০৭:৫৫:০৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ভূয়া বিয়ের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার এক বিশাল প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত বুধবার কর্তৃপক্ষ এই আন্তর্জাতিক বিয়ে জালিয়াতি চক্রটির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনে।

তদন্তকারীদের দাবি, নিউইয়র্কভিত্তিক এই চক্রটি প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। যারা যেকোনো উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার স্বপ্ন দেখতেন, তাদের টার্গেট করা হতো। বিশেষ করে চীন থেকে আসা নাগরিকরা, যারা সহজে গ্রিনকার্ড এবং পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে চাইতেন, তাদেরই ছিল এই চক্রের প্রধান লক্ষ্য। মার্কিন নাগরিকদের সাথে সাজানো বিয়ে দিয়ে তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়ার পথ সহজ করে দেওয়া হতো।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হতো। চক্রের সদস্যরা যেসব মার্কিন নাগরিককে টাকার বিনিময়ে সাজানো বিয়েতে রাজী করাতো, তাদের কয়েক হাজার ডলার করে প্রদান করতো। অন্যদিকে গ্রিনকার্ডের আশায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে তারা আদায় করতো প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত।

দক্ষিণ নিউইয়র্ক জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড বিষয়টি নিয়ে জানান, দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সিন্ডিকেট প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিবাহ জালিয়াতির ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই প্রতারণা শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইমিগ্রেশন বিভাগ বা অভিবাসন কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে বিয়েগুলোকে একেবারে বাস্তব রূপ দেওয়া হতো। রেস্তোরাঁ ভাড়া করে প্রথাগত চীনা রীতিতে বিয়ের জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। কনে ও বরকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিয়ে ছবি তোলা হতো, সাজানো হতো অতিথি ও আত্মীয়স্বজন। ফটোশুট থেকে শুরু করে পুরোহিত এবং ভুয়া সাক্ষীর ব্যবস্থাও করতো এই চক্রটি, যাতে ছবি দেখে যে কারো মনে হয় বিয়েটি একদম আসল।

এমনকি তাদের মধ্যে কিছু চুক্তিপত্রও হতো বেশ অদ্ভুত। কিছু চুক্তিতে স্পষ্ট বলা থাকত যে বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকবেন এবং নিজেদের মধ্যে কোনো পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্ক রাখবেন না। গ্রিনকার্ড হাতে পাওয়ার পর পুরো কাজ শেষ হলে তারা চুক্তি অনুযায়ী ঐ মার্কিন নাগরিকদের দিয়েই আইনি বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা করে দিত।

প্রসিকিউটররা ধারণা করছেন, এই চক্রের শিকড় বেশ গভীরে এবং এর মাধ্যমে শত শত ভুয়া বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। এইভাবে বহু বছর ধরে মার্কিন অভিবাসন আইনকে পাশ কাটিয়ে অবৈধভাবে ব্যক্তিদের বৈধ করা হয়েছে।

বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনকে নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন্স আদালতে হাজির করা হয়েছে। যদি বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে আসামিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। তবে মার্কিন আইনি কাঠামোর নীতি অনুযায়ী, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবেই ধরা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: রণধীর জয়সোয়াল

অলাভজনক সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে ইন্দোনেশিয়া

১৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে গ্রিনকার্ড দেয়ার অভিযোগে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার ১১

আপডেটের সময় : ০৭:৫৫:০৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

নিউইয়র্কে ভূয়া বিয়ের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার এক বিশাল প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত বুধবার কর্তৃপক্ষ এই আন্তর্জাতিক বিয়ে জালিয়াতি চক্রটির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনে।

তদন্তকারীদের দাবি, নিউইয়র্কভিত্তিক এই চক্রটি প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। যারা যেকোনো উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার স্বপ্ন দেখতেন, তাদের টার্গেট করা হতো। বিশেষ করে চীন থেকে আসা নাগরিকরা, যারা সহজে গ্রিনকার্ড এবং পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে চাইতেন, তাদেরই ছিল এই চক্রের প্রধান লক্ষ্য। মার্কিন নাগরিকদের সাথে সাজানো বিয়ে দিয়ে তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়ার পথ সহজ করে দেওয়া হতো।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হতো। চক্রের সদস্যরা যেসব মার্কিন নাগরিককে টাকার বিনিময়ে সাজানো বিয়েতে রাজী করাতো, তাদের কয়েক হাজার ডলার করে প্রদান করতো। অন্যদিকে গ্রিনকার্ডের আশায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে তারা আদায় করতো প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত।

দক্ষিণ নিউইয়র্ক জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড বিষয়টি নিয়ে জানান, দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সিন্ডিকেট প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিবাহ জালিয়াতির ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই প্রতারণা শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইমিগ্রেশন বিভাগ বা অভিবাসন কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে বিয়েগুলোকে একেবারে বাস্তব রূপ দেওয়া হতো। রেস্তোরাঁ ভাড়া করে প্রথাগত চীনা রীতিতে বিয়ের জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। কনে ও বরকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিয়ে ছবি তোলা হতো, সাজানো হতো অতিথি ও আত্মীয়স্বজন। ফটোশুট থেকে শুরু করে পুরোহিত এবং ভুয়া সাক্ষীর ব্যবস্থাও করতো এই চক্রটি, যাতে ছবি দেখে যে কারো মনে হয় বিয়েটি একদম আসল।

এমনকি তাদের মধ্যে কিছু চুক্তিপত্রও হতো বেশ অদ্ভুত। কিছু চুক্তিতে স্পষ্ট বলা থাকত যে বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকবেন এবং নিজেদের মধ্যে কোনো পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্ক রাখবেন না। গ্রিনকার্ড হাতে পাওয়ার পর পুরো কাজ শেষ হলে তারা চুক্তি অনুযায়ী ঐ মার্কিন নাগরিকদের দিয়েই আইনি বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা করে দিত।

প্রসিকিউটররা ধারণা করছেন, এই চক্রের শিকড় বেশ গভীরে এবং এর মাধ্যমে শত শত ভুয়া বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। এইভাবে বহু বছর ধরে মার্কিন অভিবাসন আইনকে পাশ কাটিয়ে অবৈধভাবে ব্যক্তিদের বৈধ করা হয়েছে।

বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনকে নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন্স আদালতে হাজির করা হয়েছে। যদি বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে আসামিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। তবে মার্কিন আইনি কাঠামোর নীতি অনুযায়ী, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবেই ধরা হবে।

Share this news as a Photo Card