নিউইয়র্ক ০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চুরির মামলা, ‘বড় অঙ্কে’র ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড

  • আপডেটের সময় : ০৭:০০:৫১ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার জন্য দান করা মরদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবৈধভাবে বিক্রির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ৫৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৭ আগস্ট) বোস্টনের একটি আদালতে এই সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। 

এর মাধ্যমে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মর্গ ব্যবস্থাপক সেড্রিক লজ মানবদেহের বিভিন্ন অংশ চুরি করে কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় দোষ স্বীকার করার পর এসব মামলা করা হয়েছিল।

৫৮ বছর বয়সী লজ, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত, এই কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেডিকেল স্কুলের পক্ষ থেকে সোমবার দেওয়া এক চিঠিতে জানানো হয়, আদালত অনুমোদন দিলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করা হবে।

লজ ও হার্ভার্ডের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা আরও ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে তারা সবাই দোষ স্বীকার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ‘অ্যানাটমিক্যাল গিফটস প্রোগ্রাম’-এর ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিয়ে লজ চিকিৎসা গবেষণার জন্য দান করা মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলতেন। পরে সেগুলো বিক্রি করতেন তিনি ও তার স্ত্রী।

হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা পদ্ধতি শেখা ও অনুশীলনের জন্য দান করা মরদেহ ব্যবহার করেন। এসব মরদেহের ব্যবহার শেষ হলে সাধারণত সেগুলো দাহ করা হয় এবং দেহাবশেষ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কবরস্থানেও দাফন করা হয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, লজ ও তার স্ত্রী পেনসিলভানিয়া ও ম্যাসাচুসেটসের ক্রেতাদের কাছে এসব মানবদেহের অঙ্গ বিক্রি করতেন।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর, পেনসিলভানিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক বিচারক তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন। তার স্ত্রীকে এক বছর এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ২০২৩ সালে, হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে একাধিক দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার। তাদের অভিযোগ ছিল, লজের অনিয়ম সম্পর্কে কয়েক বছর ধরে অবগত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। প্রথমে অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতের বিচারক মামলাগুলো খারিজ করে দিলেও গত বছরের ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্ট সেগুলো আবার রিওপেন করেন।

সোমবার হার্ভার্ড ও মামলাগুলোর বাদীপক্ষ ৫৩ মিলিয়ন ডলারের ক্লাস-অ্যাকশন সমঝোতা চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করে।

হার্ভার্ডের মেডিসিন অনুষদের ডিন জর্জ ডেইলি এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মেডিকেল এডুকেশনের ডিন বার্নার্ড চ্যাং স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, লজের অপরাধ ছিল ‘নৈতিকভাবে নিন্দনীয়’ এবং মরদেহ দানকারী ও তাদের স্বজনদের প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল স্কুলের প্রত্যাশিত মানের সঙ্গে তা সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

এদিকে, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল অ্যানাটমিক্যাল ডোনারদের সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর একটি আর্থিক সহায়তা বৃত্তি চালু করবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, লজের সাজা ও ক্ষতিপূরণ সমঝোতার মাধ্যমে মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেও এই বেদনাদায়ক ঘটনার ক্ষত কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিতর্কের মুখে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ প্রত্যাহার বিজয় সরকারের

১৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চুরির মামলা, ‘বড় অঙ্কে’র ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড

আপডেটের সময় : ০৭:০০:৫১ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার জন্য দান করা মরদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবৈধভাবে বিক্রির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ৫৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৭ আগস্ট) বোস্টনের একটি আদালতে এই সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। 

এর মাধ্যমে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মর্গ ব্যবস্থাপক সেড্রিক লজ মানবদেহের বিভিন্ন অংশ চুরি করে কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় দোষ স্বীকার করার পর এসব মামলা করা হয়েছিল।

৫৮ বছর বয়সী লজ, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত, এই কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেডিকেল স্কুলের পক্ষ থেকে সোমবার দেওয়া এক চিঠিতে জানানো হয়, আদালত অনুমোদন দিলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করা হবে।

লজ ও হার্ভার্ডের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা আরও ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে তারা সবাই দোষ স্বীকার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ‘অ্যানাটমিক্যাল গিফটস প্রোগ্রাম’-এর ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিয়ে লজ চিকিৎসা গবেষণার জন্য দান করা মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলতেন। পরে সেগুলো বিক্রি করতেন তিনি ও তার স্ত্রী।

হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা পদ্ধতি শেখা ও অনুশীলনের জন্য দান করা মরদেহ ব্যবহার করেন। এসব মরদেহের ব্যবহার শেষ হলে সাধারণত সেগুলো দাহ করা হয় এবং দেহাবশেষ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কবরস্থানেও দাফন করা হয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, লজ ও তার স্ত্রী পেনসিলভানিয়া ও ম্যাসাচুসেটসের ক্রেতাদের কাছে এসব মানবদেহের অঙ্গ বিক্রি করতেন।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর, পেনসিলভানিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক বিচারক তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন। তার স্ত্রীকে এক বছর এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ২০২৩ সালে, হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে একাধিক দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার। তাদের অভিযোগ ছিল, লজের অনিয়ম সম্পর্কে কয়েক বছর ধরে অবগত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। প্রথমে অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতের বিচারক মামলাগুলো খারিজ করে দিলেও গত বছরের ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্ট সেগুলো আবার রিওপেন করেন।

সোমবার হার্ভার্ড ও মামলাগুলোর বাদীপক্ষ ৫৩ মিলিয়ন ডলারের ক্লাস-অ্যাকশন সমঝোতা চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করে।

হার্ভার্ডের মেডিসিন অনুষদের ডিন জর্জ ডেইলি এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মেডিকেল এডুকেশনের ডিন বার্নার্ড চ্যাং স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, লজের অপরাধ ছিল ‘নৈতিকভাবে নিন্দনীয়’ এবং মরদেহ দানকারী ও তাদের স্বজনদের প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল স্কুলের প্রত্যাশিত মানের সঙ্গে তা সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

এদিকে, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল অ্যানাটমিক্যাল ডোনারদের সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর একটি আর্থিক সহায়তা বৃত্তি চালু করবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, লজের সাজা ও ক্ষতিপূরণ সমঝোতার মাধ্যমে মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেও এই বেদনাদায়ক ঘটনার ক্ষত কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

Share this news as a Photo Card