নিউইয়র্ক ০২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবে প্রকাশ্য ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি

  • আপডেটের সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে সংসদ ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সাল কামাল। বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ তথ্য ও ভোট দেওয়ার নিয়ম তুলে ধরেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের মতো গোপন ব্যালটে হবে না। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে প্রত্যেক এমপির ভোটের সংখ্যা হবে একটি।

ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট পেপার প্রস্তুত করবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারে থাকবে দুটি আলাদা অংশ—কাউন্টার ফয়েল ও আউটার ফয়েল।

কাউন্টার ফয়েলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম এবং তার নির্ধারিত বিভক্তি নম্বর মুদ্রিত থাকবে। সেখানে ভোটারের স্বাক্ষরের জন্যও নির্দিষ্ট জায়গা থাকবে।

অন্যদিকে আউটার ফয়েলে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম আদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে আলাদা ঘরে ছাপানো থাকবে। প্রত্যেক প্রার্থীর নামের পাশে ভোট দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে। একই অংশে ভোটারের বিভক্তি নম্বরও উল্লেখ থাকবে।

ভোট দেওয়ার সময় প্রথমে সংসদ সদস্যকে নিজের নির্ধারিত ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েলে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর ব্যালটের আউটার ফয়েলে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।

স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।

অর্থাৎ, এ নির্বাচনে সাধারণ গোপন ভোটের মতো ব্যালটে কোনো টিক চিহ্ন বা সিল ব্যবহার করা হবে না। সংসদ সদস্য যে প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তার নামের পাশে নিজের নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ফলে ভোটটি কার দেওয়া এবং কোন প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে, তা স্বাক্ষরের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনে ‘বিভক্তি নম্বর’-এরও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে যে নির্দিষ্ট নম্বর দেওয়া হয়, সেটিই তার বিভক্তি নম্বর।

আর ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়ি বাদ দিলে যে অংশ অবশিষ্ট থাকে, সেটিকে আউটার ফয়েল বলা হয়।

এই নিয়মেই সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যেভাবে প্রকাশ্য ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটের সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে সংসদ ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সাল কামাল। বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ তথ্য ও ভোট দেওয়ার নিয়ম তুলে ধরেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের মতো গোপন ব্যালটে হবে না। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে প্রত্যেক এমপির ভোটের সংখ্যা হবে একটি।

ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট পেপার প্রস্তুত করবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারে থাকবে দুটি আলাদা অংশ—কাউন্টার ফয়েল ও আউটার ফয়েল।

কাউন্টার ফয়েলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম এবং তার নির্ধারিত বিভক্তি নম্বর মুদ্রিত থাকবে। সেখানে ভোটারের স্বাক্ষরের জন্যও নির্দিষ্ট জায়গা থাকবে।

অন্যদিকে আউটার ফয়েলে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম আদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে আলাদা ঘরে ছাপানো থাকবে। প্রত্যেক প্রার্থীর নামের পাশে ভোট দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে। একই অংশে ভোটারের বিভক্তি নম্বরও উল্লেখ থাকবে।

ভোট দেওয়ার সময় প্রথমে সংসদ সদস্যকে নিজের নির্ধারিত ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েলে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর ব্যালটের আউটার ফয়েলে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।

স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।

অর্থাৎ, এ নির্বাচনে সাধারণ গোপন ভোটের মতো ব্যালটে কোনো টিক চিহ্ন বা সিল ব্যবহার করা হবে না। সংসদ সদস্য যে প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তার নামের পাশে নিজের নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ফলে ভোটটি কার দেওয়া এবং কোন প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে, তা স্বাক্ষরের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনে ‘বিভক্তি নম্বর’-এরও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে যে নির্দিষ্ট নম্বর দেওয়া হয়, সেটিই তার বিভক্তি নম্বর।

আর ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়ি বাদ দিলে যে অংশ অবশিষ্ট থাকে, সেটিকে আউটার ফয়েল বলা হয়।

এই নিয়মেই সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

Share this news as a Photo Card