নিউইয়র্ক ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা ঘিরে দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোতায়েন হাজারো পুলিশ

  • আপডেটের সময় : ০১:১৭:০৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার (১২ অক্টোবর) টানা তৃতীয় দিনের মতো দিল্লিতে হাজারো পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন। পাশাপাশি যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। এর আগে বিক্ষোভ থেকে হাজারো মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। বিক্ষোভ করতে গেলে সিজেপির সমর্থকদেরও বাধা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই) ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, গণ-আটকের মাধ্যমে আন্দোলন ও ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেছেন, রোববারের বিক্ষোভের সময় পুলিশ তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছে এবং তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা নয়; এটি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপরও আঘাত।’

বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আটকের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রেস কার্ড স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করার পরও পুলিশ তাদের আটক করে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় অন্তত ১৬ জন সাংবাদিককে ‘নিষ্ঠুরভাবে’ আটক করা হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়। এটি তাদের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।’

এদিকে, রাহুল গান্ধী সোমবার তার সমর্থকদের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘যত খুশি পুলিশ নিয়ে আসুন—১০ হাজার, ২০ হাজার, ৪০ হাজার—নিয়ে আসুন। প্রয়োজনে বিজেপি-আরএসএসের যত গুন্ডা দরকার, তাদেরও ডাকুন। আমরা ভয় পাওয়ার পাত্র নই। আমরা পিছু হটার লোক নই। এই লড়াই এখন থামবে না!’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপির নেতা ও সমর্থকরা।

ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন আন্দোলনকারীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই প্রতিবাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে তার জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে ১৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তিদের নাম এবং ভুয়া বা জালিয়াতিপূর্ণ এন্ট্রি বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সংশোধন করা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা ঘিরে দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোতায়েন হাজারো পুলিশ

সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে বিরোধী দল, দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার

১২ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা ঘিরে দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোতায়েন হাজারো পুলিশ

আপডেটের সময় : ০১:১৭:০৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার (১২ অক্টোবর) টানা তৃতীয় দিনের মতো দিল্লিতে হাজারো পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন। পাশাপাশি যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। এর আগে বিক্ষোভ থেকে হাজারো মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। বিক্ষোভ করতে গেলে সিজেপির সমর্থকদেরও বাধা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই) ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, গণ-আটকের মাধ্যমে আন্দোলন ও ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেছেন, রোববারের বিক্ষোভের সময় পুলিশ তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছে এবং তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা নয়; এটি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপরও আঘাত।’

বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আটকের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রেস কার্ড স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করার পরও পুলিশ তাদের আটক করে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় অন্তত ১৬ জন সাংবাদিককে ‘নিষ্ঠুরভাবে’ আটক করা হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়। এটি তাদের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।’

এদিকে, রাহুল গান্ধী সোমবার তার সমর্থকদের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘যত খুশি পুলিশ নিয়ে আসুন—১০ হাজার, ২০ হাজার, ৪০ হাজার—নিয়ে আসুন। প্রয়োজনে বিজেপি-আরএসএসের যত গুন্ডা দরকার, তাদেরও ডাকুন। আমরা ভয় পাওয়ার পাত্র নই। আমরা পিছু হটার লোক নই। এই লড়াই এখন থামবে না!’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপির নেতা ও সমর্থকরা।

ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন আন্দোলনকারীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই প্রতিবাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে তার জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে ১৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তিদের নাম এবং ভুয়া বা জালিয়াতিপূর্ণ এন্ট্রি বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সংশোধন করা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Share this news as a Photo Card