নিউইয়র্ক ০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক ও ভিডিও লেসন

  • আপডেটের সময় : ০৩:২৫:৩১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক, রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিও লেসন যুক্ত করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি বাইরেও শেখার সমান সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সেই লক্ষ্যেই ২০২৮ সালের জন্য যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে।

নতুন কারিকুলামের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে ব্যবহারিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ শক্তিশালী করা হচ্ছে।

নতুন প্রজন্মের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে সংস্কৃতি শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় মূল্যবোধের চর্চা করবে। অন্যদিকে ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও সুস্থ জীবনাচারের বোধ গড়ে উঠবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এছাড়া সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

২৯০ কিমি গতির সুপার টাইফুনের আঘাত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল, এম্বোলোর লাল কার্ডে সুবিধা পেয়েছে আর্জেন্টিনা: স্কালোনি

১২ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক ও ভিডিও লেসন

আপডেটের সময় : ০৩:২৫:৩১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক, রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিও লেসন যুক্ত করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি বাইরেও শেখার সমান সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সেই লক্ষ্যেই ২০২৮ সালের জন্য যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে।

নতুন কারিকুলামের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে ব্যবহারিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ শক্তিশালী করা হচ্ছে।

নতুন প্রজন্মের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে সংস্কৃতি শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় মূল্যবোধের চর্চা করবে। অন্যদিকে ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও সুস্থ জীবনাচারের বোধ গড়ে উঠবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এছাড়া সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card