নিউইয়র্ক ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সতর্ক করার পরও লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট

  • আপডেটের সময় : ০১:৩০:৩৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।কাঠের তৈরি তিনতলা এই রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা এবং নোটিশ দেওয়ার পরও রিসোর্টটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

তিনি বলেন, রিসোর্টটি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছিল না। ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে খাবার তৈরি করা হতো। আর দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পান তারা। ঘটনাস্থল থেকে নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করার পরও রিসোর্ট চালু রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না।

কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মহাপরিচালক। তার ভাষ্য, অনেক প্রতিষ্ঠানই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সামনে শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। বিস্তারিত তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং সারা দেশে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের করণীয় পর্যালোচনা করা হবে। বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুরান ঢাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা ও গুদাম এবং বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তা এবং ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকায় আগুন নেভাতে গিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। এসব কারণে অগ্নিনির্বাপণকারী যানবাহন ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা জরুরি। তবে পুরোনো বসতি ও স্থাপনাগুলোতে একসঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন এবং এ জন্য সময় প্রয়োজন। নতুন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বারবার সচেতন করা হচ্ছে।

অগ্নিনির্বাপণে সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথাও জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সরু রাস্তায় দ্রুত পৌঁছাতে বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির রিজার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আগুন নেভানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সতর্ক করার পরও লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট

আপডেটের সময় : ০১:৩০:৩৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।কাঠের তৈরি তিনতলা এই রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা এবং নোটিশ দেওয়ার পরও রিসোর্টটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

তিনি বলেন, রিসোর্টটি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছিল না। ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে খাবার তৈরি করা হতো। আর দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পান তারা। ঘটনাস্থল থেকে নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করার পরও রিসোর্ট চালু রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না।

কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মহাপরিচালক। তার ভাষ্য, অনেক প্রতিষ্ঠানই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সামনে শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। বিস্তারিত তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং সারা দেশে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের করণীয় পর্যালোচনা করা হবে। বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুরান ঢাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা ও গুদাম এবং বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তা এবং ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকায় আগুন নেভাতে গিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। এসব কারণে অগ্নিনির্বাপণকারী যানবাহন ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা জরুরি। তবে পুরোনো বসতি ও স্থাপনাগুলোতে একসঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন এবং এ জন্য সময় প্রয়োজন। নতুন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বারবার সচেতন করা হচ্ছে।

অগ্নিনির্বাপণে সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথাও জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সরু রাস্তায় দ্রুত পৌঁছাতে বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির রিজার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আগুন নেভানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card