নিউইয়র্ক ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সবাই মিলেমিশে খাই’ বলে ৩ খাদ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত

  • আপডেটের সময় : ০৭:০৫:৪১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির (ওএমএস) জন্য বরাদ্দকৃত আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, খাদ্য পরিদর্শক এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তাদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন-কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।

এর আগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার গোপনে ধারণ করা একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলায় ওএমএস চাল-আটা বিক্রির জন্য প্রতিদিন ২ টন চাল ও ২ টন আটা বরাদ্দ থাকে। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় ৫ কেজি আটা ও ৫ কেজি চাল কিনতে পারেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হতো মাত্র ২০ বস্তা। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা পেতেন না। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের দাবি।

ভুক্তভোগী সাবেরা বিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরে বলা হতো আটা শেষ, কিন্তু চাল পাওয়া যেত। পরে জানতে পারি, বরাদ্দ অনুযায়ী আটা বিক্রিই করা হচ্ছিল না। গরিব মানুষের হক এভাবে লুটপাট হবে, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

‎এ বিষয়ে জানতে খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।” ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘সবাই মিলেমিশে খাই’ বলে ৩ খাদ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপডেটের সময় : ০৭:০৫:৪১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির (ওএমএস) জন্য বরাদ্দকৃত আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, খাদ্য পরিদর্শক এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তাদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন-কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।

এর আগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার গোপনে ধারণ করা একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলায় ওএমএস চাল-আটা বিক্রির জন্য প্রতিদিন ২ টন চাল ও ২ টন আটা বরাদ্দ থাকে। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় ৫ কেজি আটা ও ৫ কেজি চাল কিনতে পারেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হতো মাত্র ২০ বস্তা। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা পেতেন না। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের দাবি।

ভুক্তভোগী সাবেরা বিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরে বলা হতো আটা শেষ, কিন্তু চাল পাওয়া যেত। পরে জানতে পারি, বরাদ্দ অনুযায়ী আটা বিক্রিই করা হচ্ছিল না। গরিব মানুষের হক এভাবে লুটপাট হবে, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

‎এ বিষয়ে জানতে খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।” ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card