নিউইয়র্ক ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার অভিযান চালাতে বেসরকারি কোম্পানিকে আইনি সুযোগ করে দিলেন ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ০৫:২৪:০৮ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশভিত্তিক অপরাধী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সীমিত সাইবার অভিযান পরিচালনায় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে বুধবার একটি প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক ওই স্মারকের মাধ্যমে সরকারের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সাইবার কার্যক্রম পরিচালনায় বেসরকারি খাতের সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতির ফলে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এমন কিছু কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে, যা এত দিন মূলত সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্বের মধ্যে ছিল। তবে স্মারকটি কোম্পানিগুলোকে ইচ্ছেমতো হ্যাকিং বা সাইবার হামলা চালানোর সীমাহীন অনুমতি দিচ্ছে না। বরং সরকারের অনুমোদন ও তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সীমিত সাইবার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যপত্রে বিদেশভিত্তিক আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনগুলোর (টিসিও) র‍্যানসমওয়্যার হামলা, আর্থিক প্রতারণা ও অন্যান্য সাইবার অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগানোই নতুন কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

স্মারক অনুযায়ী, বেসরকারি কোম্পানিগুলো অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য, স্থানীয়, উপজাতীয় ও আঞ্চলিক সরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। এর মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সাইবার হুমকি মোকাবিলায় অভিযানের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এ জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অধীনে একটি বিশেষ কর্মসূচি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্কফোর্সের জাতীয় সমন্বয় কেন্দ্রের মাধ্যমে কর্মসূচিটি পরিচালিত হবে এবং এতে ডিএইচএস ও বিচার বিভাগ তদারকি করবে।

অনুমোদিত অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ‘সাইবার নজরদারি কার্যক্রম’ এবং ‘সাইবার প্রভাব বিস্তারকারী কার্যক্রম’ চালাতে পারবে। এর আওতায় কোনো তথ্যব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক বা সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত ভৌত ও ভার্চ্যুয়াল অবকাঠামোয় প্রবেশ, পরিবর্তন, ব্যাহত করা, অকার্যকর করা বা ক্ষতিসাধনের মতো কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোকে কমপক্ষে ১০ লাখ ডলারের বন্ড বা এসক্রো জমা রাখার শর্তও রাখা হয়েছে।

এদিকে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের এআই মডেলগুলো পুরোনো নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও সাইবার নিরাপত্তায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা জানিয়েছিল। গত মার্চে প্রকাশিত জাতীয় সাইবার নিরাপত্তানীতিতেও বিদেশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বেসরকারি খাতকে কাজে লাগাতে সরকারি প্রণোদনা তৈরির কথা বলা হয়েছিল।

তবে বেসরকারি কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক সাইবার সংঘাতে সরাসরি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের কার্যক্রম সংঘাত বাড়াতে পারে, অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের জটিলতা বাড়াতে পারে।

ফলে নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বেসরকারি প্রযুক্তি খাতকে কতটা এবং কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুক হামলা, আহত অন্তত ৫ জন

হরমুজ দখলের বিষয়ে ‘মজা’ করেছেন ট্রাম্প: মার্কিন সংবাদমাধ্যম

১৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সাইবার অভিযান চালাতে বেসরকারি কোম্পানিকে আইনি সুযোগ করে দিলেন ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০৫:২৪:০৮ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বিদেশভিত্তিক অপরাধী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সীমিত সাইবার অভিযান পরিচালনায় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে বুধবার একটি প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক ওই স্মারকের মাধ্যমে সরকারের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সাইবার কার্যক্রম পরিচালনায় বেসরকারি খাতের সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতির ফলে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এমন কিছু কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে, যা এত দিন মূলত সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্বের মধ্যে ছিল। তবে স্মারকটি কোম্পানিগুলোকে ইচ্ছেমতো হ্যাকিং বা সাইবার হামলা চালানোর সীমাহীন অনুমতি দিচ্ছে না। বরং সরকারের অনুমোদন ও তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সীমিত সাইবার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যপত্রে বিদেশভিত্তিক আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনগুলোর (টিসিও) র‍্যানসমওয়্যার হামলা, আর্থিক প্রতারণা ও অন্যান্য সাইবার অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগানোই নতুন কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

স্মারক অনুযায়ী, বেসরকারি কোম্পানিগুলো অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য, স্থানীয়, উপজাতীয় ও আঞ্চলিক সরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। এর মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সাইবার হুমকি মোকাবিলায় অভিযানের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এ জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অধীনে একটি বিশেষ কর্মসূচি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্কফোর্সের জাতীয় সমন্বয় কেন্দ্রের মাধ্যমে কর্মসূচিটি পরিচালিত হবে এবং এতে ডিএইচএস ও বিচার বিভাগ তদারকি করবে।

অনুমোদিত অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ‘সাইবার নজরদারি কার্যক্রম’ এবং ‘সাইবার প্রভাব বিস্তারকারী কার্যক্রম’ চালাতে পারবে। এর আওতায় কোনো তথ্যব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক বা সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত ভৌত ও ভার্চ্যুয়াল অবকাঠামোয় প্রবেশ, পরিবর্তন, ব্যাহত করা, অকার্যকর করা বা ক্ষতিসাধনের মতো কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোকে কমপক্ষে ১০ লাখ ডলারের বন্ড বা এসক্রো জমা রাখার শর্তও রাখা হয়েছে।

এদিকে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের এআই মডেলগুলো পুরোনো নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও সাইবার নিরাপত্তায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা জানিয়েছিল। গত মার্চে প্রকাশিত জাতীয় সাইবার নিরাপত্তানীতিতেও বিদেশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বেসরকারি খাতকে কাজে লাগাতে সরকারি প্রণোদনা তৈরির কথা বলা হয়েছিল।

তবে বেসরকারি কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক সাইবার সংঘাতে সরাসরি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের কার্যক্রম সংঘাত বাড়াতে পারে, অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের জটিলতা বাড়াতে পারে।

ফলে নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বেসরকারি প্রযুক্তি খাতকে কতটা এবং কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

Share this news as a Photo Card