নিউইয়র্ক ০৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’

  • আপডেটের সময় : ১০:৩৪:৪৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘প্যাকেজ ভিসা’ নামে পরীক্ষামূলক এক উদ্যোগের সূচনা করেছে সৌদি আরব। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য পর্যটকরা বিমান টিকিট, আবাসন ও অন্যান্য ভ্রমণসেবার সমন্বয়ে গঠিত একটি সমন্বিত প্যাকেজের অংশ হিসেবেই পর্যটন ভিসা পাবেন।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপাতত অনুমোদিত ভ্রমণ ও পর্যটন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নির্বাচিত কিছু পাইলট বাজারে এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এই উদ্যোগকে দর্শনার্থীদের জন্য মসৃণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরির পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এসপিএকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের পর্যটন-গল্পটি সব সময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছি—আমাদের ভ্রমণ ও পর্যটন অংশীদারদের ক্ষমতায়ন, দর্শনার্থীদের যাত্রাকে সহজ করা এবং সৌদি আরবকে উপভোগের আরও স্মার্ট ও নিরবচ্ছিন্ন উপায় তৈরি করা।’

যেসব সুবিধা মিলবে

নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য ভ্রমণকারীরা একটি সমন্বিত প্যাকেজের মাধ্যমেই পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্যাকেজগুলোতে রাউন্ড-ট্রিপ বিমান টিকিট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেল বা রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ভিসার আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এমনকি ভ্রমণসূচিতে বিভিন্ন ইভেন্ট, কার্যক্রম বা পর্যটন আকর্ষণের মতো অভিজ্ঞতাও যুক্ত করার সুযোগ থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।

এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো ভ্রমণকারীদের আলাদাভাবে বিমান, হোটেল ও ভিসা ব্যবস্থাপনার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়া। তবে এই সেবা কেবল সেই সব অনুমোদিত ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানই দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, কারিগরি সক্ষমতা এবং ২৪ ঘণ্টার গ্রাহকসেবা ব্যবস্থা রয়েছে।

‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ

মূলত সৌদি আরবের বৃহত্তর ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অধীনে পর্যটন খাতের প্রসারের লক্ষ্যেই ‘প্যাকেজ ভিসা’র এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশটির বিমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করেছে।

ট্যুরিস্ট ই-ভিসা চালুর পর থেকে সৌদি আরব সময়ে সময়ে ভিসা নীতি সহজ করতে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ এবং ‘স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা’র মতো একাধিক নমনীয় ব্যবস্থা চালু করেছে। এসব পদক্ষেপের সুফল হিসেবে ২০২৫ সালে দেশটি ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানাতে পেরেছে।

পর্যটন খাতে চাঙাভাবের প্রত্যাশা

প্যাকেজ ভিসা চালু হওয়ায় ট্রাভেল কোম্পানিগুলো এখন সৌদি ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করতে সম্পূর্ণ প্যাকেজ ভ্রমণসূচি তৈরি করতে পারবে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ায় পর্যটকরা এখন আরও দীর্ঘ সময় সৌদি আরবে অবস্থান করবেন, ভ্রমণে আরও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা লাভ করবেন এবং সেই সঙ্গে পর্যটন খাতে ব্যয়ও বাড়বে।

এই কর্মসূচি বিদেশি পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ আরও সহজ করা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে দৃঢ় অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং নিরবচ্ছিন্ন পর্যটন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার দেশটির চলমান প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় হামলা, দুই রাতে ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত

সৌদি আরবে চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’

১০ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সৌদি আরবে চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’

আপডেটের সময় : ১০:৩৪:৪৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘প্যাকেজ ভিসা’ নামে পরীক্ষামূলক এক উদ্যোগের সূচনা করেছে সৌদি আরব। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য পর্যটকরা বিমান টিকিট, আবাসন ও অন্যান্য ভ্রমণসেবার সমন্বয়ে গঠিত একটি সমন্বিত প্যাকেজের অংশ হিসেবেই পর্যটন ভিসা পাবেন।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপাতত অনুমোদিত ভ্রমণ ও পর্যটন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নির্বাচিত কিছু পাইলট বাজারে এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এই উদ্যোগকে দর্শনার্থীদের জন্য মসৃণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরির পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এসপিএকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের পর্যটন-গল্পটি সব সময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছি—আমাদের ভ্রমণ ও পর্যটন অংশীদারদের ক্ষমতায়ন, দর্শনার্থীদের যাত্রাকে সহজ করা এবং সৌদি আরবকে উপভোগের আরও স্মার্ট ও নিরবচ্ছিন্ন উপায় তৈরি করা।’

যেসব সুবিধা মিলবে

নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য ভ্রমণকারীরা একটি সমন্বিত প্যাকেজের মাধ্যমেই পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্যাকেজগুলোতে রাউন্ড-ট্রিপ বিমান টিকিট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেল বা রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ভিসার আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এমনকি ভ্রমণসূচিতে বিভিন্ন ইভেন্ট, কার্যক্রম বা পর্যটন আকর্ষণের মতো অভিজ্ঞতাও যুক্ত করার সুযোগ থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।

এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো ভ্রমণকারীদের আলাদাভাবে বিমান, হোটেল ও ভিসা ব্যবস্থাপনার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়া। তবে এই সেবা কেবল সেই সব অনুমোদিত ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানই দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, কারিগরি সক্ষমতা এবং ২৪ ঘণ্টার গ্রাহকসেবা ব্যবস্থা রয়েছে।

‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ

মূলত সৌদি আরবের বৃহত্তর ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অধীনে পর্যটন খাতের প্রসারের লক্ষ্যেই ‘প্যাকেজ ভিসা’র এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশটির বিমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করেছে।

ট্যুরিস্ট ই-ভিসা চালুর পর থেকে সৌদি আরব সময়ে সময়ে ভিসা নীতি সহজ করতে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ এবং ‘স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা’র মতো একাধিক নমনীয় ব্যবস্থা চালু করেছে। এসব পদক্ষেপের সুফল হিসেবে ২০২৫ সালে দেশটি ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানাতে পেরেছে।

পর্যটন খাতে চাঙাভাবের প্রত্যাশা

প্যাকেজ ভিসা চালু হওয়ায় ট্রাভেল কোম্পানিগুলো এখন সৌদি ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করতে সম্পূর্ণ প্যাকেজ ভ্রমণসূচি তৈরি করতে পারবে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ায় পর্যটকরা এখন আরও দীর্ঘ সময় সৌদি আরবে অবস্থান করবেন, ভ্রমণে আরও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা লাভ করবেন এবং সেই সঙ্গে পর্যটন খাতে ব্যয়ও বাড়বে।

এই কর্মসূচি বিদেশি পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ আরও সহজ করা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে দৃঢ় অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং নিরবচ্ছিন্ন পর্যটন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার দেশটির চলমান প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card