নিউইয়র্ক ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ০৮:৩১:০০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

হালাল অর্থনীতি নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র হতে পারে বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আসিয়ান অঞ্চলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হালাল অর্থনীতিকে এখন আর স্রেফ খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। এটি এখন ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

রপ্তানি বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক হালাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এটি বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা বাড়াবে এবং নতুন বাজার তৈরিতে সহায়তা করবে।

সেমিনারে আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেমকে বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় মডেল হিসেবে উদাহরণ করা হয়। দেশটি হালালকে শুধু পণ্য হিসেবে না দেখে উৎপাদন, গবেষণা, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানি পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।

এ সময় সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে অনুষ্ঠানে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়-

১. আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো বা সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
২. আধুনিক পরীক্ষাগার ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার স্থাপন।
৩. বিদ্যমান দেশীয় উৎপাদন খাতগুলোকে আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতার উপযোগী করা।
৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), তরুণ উদ্যোক্তা এবং গবেষকদের এই খাতটিতে সম্পৃক্ত করা।
৫. সক্রিয় অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’-কে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মালয়েশিয়ায় ৩ বাংলাদেশি হত্যা: ভাষা জটিলতায় অভিযোগ গঠন স্থগিত

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ১২

১৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০৮:৩১:০০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

হালাল অর্থনীতি নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র হতে পারে বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আসিয়ান অঞ্চলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হালাল অর্থনীতিকে এখন আর স্রেফ খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। এটি এখন ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

রপ্তানি বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক হালাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এটি বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা বাড়াবে এবং নতুন বাজার তৈরিতে সহায়তা করবে।

সেমিনারে আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেমকে বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় মডেল হিসেবে উদাহরণ করা হয়। দেশটি হালালকে শুধু পণ্য হিসেবে না দেখে উৎপাদন, গবেষণা, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানি পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।

এ সময় সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে অনুষ্ঠানে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়-

১. আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো বা সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
২. আধুনিক পরীক্ষাগার ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার স্থাপন।
৩. বিদ্যমান দেশীয় উৎপাদন খাতগুলোকে আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতার উপযোগী করা।
৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), তরুণ উদ্যোক্তা এবং গবেষকদের এই খাতটিতে সম্পৃক্ত করা।
৫. সক্রিয় অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’-কে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা।

Share this news as a Photo Card