নিউইয়র্ক ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬৬৬ কোটি টাকা করের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের আপিল

  • আপডেটের সময় : ১২:৪৮:০৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা করের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে গ্রামীণ কল্যাণ। পৃথক দুটি রিট খারিজ করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দুটি করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ।

আপিল বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, শুনানির জন্য আপিল দুটি রোববার চেম্বার জজ আদালতের কার্যতালিকায় যথাক্রমে ৯৯ ও ১০০ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

পরে গত ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত গ্রামীণ কল্যাণের কর ফাঁকির চেষ্টাকে ‘ধ্রুপদি উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালত বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া একটি বিষয় দীর্ঘায়িত করে কর ফাঁকির চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে সরকারকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি কোনো চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি।

রায়ে বলা হয়, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য আরোপিত ৬৬৬ কোটি টাকা আয়করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট দায়ের করে গ্রামীণ কল্যাণ। অথচ একই প্রতিষ্ঠান ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ করবর্ষের জন্য একই ধরনের আয়কর পরিশোধ করেছে।

পরবর্তী সময়ে ওই করের বৈধতা ২০১৯ সালের ৩৬৩ নম্বর আয়কর রেফারেন্স মামলার মাধ্যমে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলেও গ্রামীণ কল্যাণ মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।

এ বিষয়ে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদনকারী নিজের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে একই বিষয় নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের প্রতি চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের চেষ্টা করছে, যা কার্যত আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

টাকার বিনিময়ে টাইফুনের অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় করছেন চীনের পর্যটকেরা

স্ত্রী ও নিজেকে শেষ করার আগে বাবা ও বাড়িওয়ালার নাম্বার অফিসে মেইল করেন আসলাম

১৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৬৬৬ কোটি টাকা করের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের আপিল

আপডেটের সময় : ১২:৪৮:০৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা করের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে গ্রামীণ কল্যাণ। পৃথক দুটি রিট খারিজ করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দুটি করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ।

আপিল বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, শুনানির জন্য আপিল দুটি রোববার চেম্বার জজ আদালতের কার্যতালিকায় যথাক্রমে ৯৯ ও ১০০ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

পরে গত ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত গ্রামীণ কল্যাণের কর ফাঁকির চেষ্টাকে ‘ধ্রুপদি উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালত বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া একটি বিষয় দীর্ঘায়িত করে কর ফাঁকির চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে সরকারকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি কোনো চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি।

রায়ে বলা হয়, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য আরোপিত ৬৬৬ কোটি টাকা আয়করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট দায়ের করে গ্রামীণ কল্যাণ। অথচ একই প্রতিষ্ঠান ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ করবর্ষের জন্য একই ধরনের আয়কর পরিশোধ করেছে।

পরবর্তী সময়ে ওই করের বৈধতা ২০১৯ সালের ৩৬৩ নম্বর আয়কর রেফারেন্স মামলার মাধ্যমে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলেও গ্রামীণ কল্যাণ মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।

এ বিষয়ে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদনকারী নিজের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে একই বিষয় নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের প্রতি চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের চেষ্টা করছে, যা কার্যত আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।

Share this news as a Photo Card