নিউইয়র্ক ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ জনের ৯ জনই ব্যবহার করেন মোবাইল ফোন

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ৮৯.৫ শতাংশ ব্যক্তি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, ৬৫.৪ শতাংশের নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে, ৫৮.৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং ১১.৭ শতাংশ কম্পিউটার ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে দেশের ৯৮.৯ শতাংশ পরিবারের অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে, ৭৩.৪ শতাংশ পরিবারের স্মার্টফোন, ৫৭.৪ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ এবং ৯৮.৫ শতাংশ পরিবারের বিদ্যুত্ সুবিধা রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৫-২৬’-এর তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) ফলাফলে এমন তথ্য ওঠে এসেছে।

বিবিএসের বাস্তবায়নাধীন ‘ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে জেলা ভিত্তিক আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো মডিউলার সার্ভের অংশ হিসেবে আইসিটি জরিপ পরিচালিত হয়। পরবর্তীকালে ২০২২ ও ২০২৩ সালে পৃথক জরিপের মাধ্যমে আইসিটি সূচক প্রকাশ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নকে (আইটিইউ)১৯টি সূচকের তথ্য সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে চলমান জরিপে—কম্পিউটার অ্যাসিসট্যান্ড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং (সিএপিআই) পদ্ধতিতে পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বছরে চারটি প্রান্তিকে তথ্য সংগ্রহ শেষে তিনটি মূল প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আইটিইউকে ২২টি সূচকের তথ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

জরিপে পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সি নারী-পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ২ হাজার ৫৬৮টি নির্বাচিত নমুনা এলাকায় প্রতি প্রান্তিকে ২৪টি করে মোট ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বছরে মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৮টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এ কাজে ৬৪ জেলায় ২১৪ জন প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

প্রান্তিকভিত্তিক তুলনায় দেখা যায়—চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার ছিল ৮০.৬ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৮৯.৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৮৯.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিজস্ব মোবাইল ফোনের মালিকানা ৫৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬৫.৫ শতাংশ হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে সামান্য কমে ৬৫.৪ শতাংশ হয়েছে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হার প্রথম প্রান্তিকে ১০ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১১.৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ১১.৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার প্রথম প্রান্তিকের ৪৮.৯ শতাংশ থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫৮.৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৫৮.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়ও ব্যক্তি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সূচকে উন্নতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় মোবাইল ফোন ব্যবহার ৮৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯.৫ শতাংশে, নিজস্ব মোবাইল ফোনের মালিকানা ৬৪.৪ শতাংশ থেকে ৬৫.৪ শতাংশে এবং কম্পিউটার ব্যবহার ১১.৩ শতাংশ থেকে ১১.৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারে। এক বছরে এ হার ৫৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৮.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

খানা বা পরিবার পর্যায়ের তথ্যেও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার স্পষ্ট হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ১৫.১ শতাংশ পরিবারের রেডিও, ৫৮.৮ শতাংশ পরিবারের টেলিভিশন, ৯৮.৯ শতাংশ পরিবারের মোবাইল ফোন, ৭৩.৪ শতাংশ পরিবারের স্মার্টফোন, ৯.০ শতাংশ পরিবারের কম্পিউটার এবং ৫৭.৪ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। এছাড়া ৯৮.২ শতাংশ পরিবারে শুধু মোবাইল ফোন, ০.৭ শতাংশ পরিবারে স্থায়ী ও মোবাইল—উভয় ধরনের ফোন এবং ৯৮.৫ শতাংশ পরিবারে বিদ্যুত্ সুবিধা রয়েছে। স্থায়ী (ফিক্সড) টেলিফোন রয়েছে মাত্র ০.৭ শতাংশ পরিবারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পরাশক্তিগুলো এখন নিজেদের সীমা বুঝতে শুরু করেছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

২৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

১০ জনের ৯ জনই ব্যবহার করেন মোবাইল ফোন

আপডেটের সময় : ০৪:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ৮৯.৫ শতাংশ ব্যক্তি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, ৬৫.৪ শতাংশের নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে, ৫৮.৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং ১১.৭ শতাংশ কম্পিউটার ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে দেশের ৯৮.৯ শতাংশ পরিবারের অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে, ৭৩.৪ শতাংশ পরিবারের স্মার্টফোন, ৫৭.৪ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ এবং ৯৮.৫ শতাংশ পরিবারের বিদ্যুত্ সুবিধা রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৫-২৬’-এর তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) ফলাফলে এমন তথ্য ওঠে এসেছে।

বিবিএসের বাস্তবায়নাধীন ‘ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে জেলা ভিত্তিক আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো মডিউলার সার্ভের অংশ হিসেবে আইসিটি জরিপ পরিচালিত হয়। পরবর্তীকালে ২০২২ ও ২০২৩ সালে পৃথক জরিপের মাধ্যমে আইসিটি সূচক প্রকাশ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নকে (আইটিইউ)১৯টি সূচকের তথ্য সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে চলমান জরিপে—কম্পিউটার অ্যাসিসট্যান্ড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং (সিএপিআই) পদ্ধতিতে পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বছরে চারটি প্রান্তিকে তথ্য সংগ্রহ শেষে তিনটি মূল প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আইটিইউকে ২২টি সূচকের তথ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

জরিপে পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সি নারী-পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ২ হাজার ৫৬৮টি নির্বাচিত নমুনা এলাকায় প্রতি প্রান্তিকে ২৪টি করে মোট ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বছরে মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৮টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এ কাজে ৬৪ জেলায় ২১৪ জন প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

প্রান্তিকভিত্তিক তুলনায় দেখা যায়—চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার ছিল ৮০.৬ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৮৯.৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৮৯.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিজস্ব মোবাইল ফোনের মালিকানা ৫৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬৫.৫ শতাংশ হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে সামান্য কমে ৬৫.৪ শতাংশ হয়েছে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হার প্রথম প্রান্তিকে ১০ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১১.৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ১১.৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার প্রথম প্রান্তিকের ৪৮.৯ শতাংশ থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫৮.৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৫৮.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়ও ব্যক্তি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সূচকে উন্নতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় মোবাইল ফোন ব্যবহার ৮৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯.৫ শতাংশে, নিজস্ব মোবাইল ফোনের মালিকানা ৬৪.৪ শতাংশ থেকে ৬৫.৪ শতাংশে এবং কম্পিউটার ব্যবহার ১১.৩ শতাংশ থেকে ১১.৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারে। এক বছরে এ হার ৫৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৮.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

খানা বা পরিবার পর্যায়ের তথ্যেও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার স্পষ্ট হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ১৫.১ শতাংশ পরিবারের রেডিও, ৫৮.৮ শতাংশ পরিবারের টেলিভিশন, ৯৮.৯ শতাংশ পরিবারের মোবাইল ফোন, ৭৩.৪ শতাংশ পরিবারের স্মার্টফোন, ৯.০ শতাংশ পরিবারের কম্পিউটার এবং ৫৭.৪ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। এছাড়া ৯৮.২ শতাংশ পরিবারে শুধু মোবাইল ফোন, ০.৭ শতাংশ পরিবারে স্থায়ী ও মোবাইল—উভয় ধরনের ফোন এবং ৯৮.৫ শতাংশ পরিবারে বিদ্যুত্ সুবিধা রয়েছে। স্থায়ী (ফিক্সড) টেলিফোন রয়েছে মাত্র ০.৭ শতাংশ পরিবারে।

Share this news as a Photo Card