নিউইয়র্ক ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে তরুণীকে যৌনপল্লীতে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

  • আপডেটের সময় : ১০:০৫:০২ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে মানবপাচার আইনের মামলায় তানিয়া আক্তার (৪৩) নামে এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত একই সঙ্গে তানিয়া আক্তারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া একই আইনের অপর একটি ধারায় তাকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি তানিয়া আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া আক্তার তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।

পরে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র‍্যাব-১০ ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে র‍্যাব সদস্যরা ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় উদ্ধারকারী র‍্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে ২৫ মার্চ তানিয়া আক্তারকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়া আক্তারকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তিনি।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এর ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা ও মানবপাচার অনেকাংশে কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ফরিদপুরে তরুণীকে যৌনপল্লীতে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেটের সময় : ১০:০৫:০২ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে মানবপাচার আইনের মামলায় তানিয়া আক্তার (৪৩) নামে এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত একই সঙ্গে তানিয়া আক্তারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া একই আইনের অপর একটি ধারায় তাকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি তানিয়া আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া আক্তার তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।

পরে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র‍্যাব-১০ ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে র‍্যাব সদস্যরা ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় উদ্ধারকারী র‍্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে ২৫ মার্চ তানিয়া আক্তারকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়া আক্তারকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তিনি।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এর ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা ও মানবপাচার অনেকাংশে কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

Share this news as a Photo Card