নিউইয়র্ক ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘শুধু সংযোগ নয়, টেলিযোগাযোগে সেবার মান ও সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে’

  • আপডেটের সময় : ০৮:৫৩:৩২ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, বরং সেবার মান, সাশ্রয়, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ সংযোগ নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ‘৩৭তম এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ (এডব্লিউজি-৩৭)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা এবং দেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষকে প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বড় ও দ্রুত পরিবর্তনশীল টেলিযোগাযোগ বাজার রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৯ কোটি ১০ লাখ মোবাইল সংযোগ এবং প্রায় ১০ কোটি ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। ১০ কোটি ৮০ লাখের বেশি গ্রাহক ফোর-জি সেবা ব্যবহার করছেন।

দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে ৪৯ হাজারের বেশি ফোর-জি সাইট, ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক।

এসব পরিসংখ্যান দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যাপকতা তুলে ধরে উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকারের লক্ষ্য এখন শুধু আরও বেশি সংযোগ যুক্ত করা নয়; বরং সেবার মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ সংযোগ নিশ্চিত করা।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সংযোগ নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করবে এবং মানুষ কোথায় বসবাস করে, তার ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সরকারের অঙ্গীকারেও এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনী ইশতেহারে আইসিটি ও টেলিযোগাযোগকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য শিল্পে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এই যাত্রায় স্পেকট্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ডেটার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ফাইভ-জি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ভবিষ্যতের অন্যান্য ওয়্যারলেস প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে।

এসব প্রযুক্তির বিকাশে এমন দূরদর্শী নীতি প্রয়োজন, যা উদ্ভাবন ও বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় এডব্লিউজি-৩৭ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন টেলিযোগাযোগ ভাবনার সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সংযোগ ঘটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা থেকে শেখা এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

নতুন প্রযুক্তি নানা সুযোগ তৈরি করলেও এর সুফল নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি, সক্ষম প্রতিষ্ঠান এবং সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিল্প খাতসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উদীয়মান ডিজিটাল চাহিদা পূরণে বিভিন্ন ওয়্যারলেস ব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে কাজ করে। পাশাপাশি কার্যকর রেডিও যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন গ্রাহকরা

নৌকায় করে মালয়েশিয়া পাচারের আগে ৫ জন উদ্ধার

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘শুধু সংযোগ নয়, টেলিযোগাযোগে সেবার মান ও সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে’

আপডেটের সময় : ০৮:৫৩:৩২ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, বরং সেবার মান, সাশ্রয়, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ সংযোগ নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ‘৩৭তম এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ (এডব্লিউজি-৩৭)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা এবং দেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষকে প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বড় ও দ্রুত পরিবর্তনশীল টেলিযোগাযোগ বাজার রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৯ কোটি ১০ লাখ মোবাইল সংযোগ এবং প্রায় ১০ কোটি ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। ১০ কোটি ৮০ লাখের বেশি গ্রাহক ফোর-জি সেবা ব্যবহার করছেন।

দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে ৪৯ হাজারের বেশি ফোর-জি সাইট, ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক।

এসব পরিসংখ্যান দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যাপকতা তুলে ধরে উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকারের লক্ষ্য এখন শুধু আরও বেশি সংযোগ যুক্ত করা নয়; বরং সেবার মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ সংযোগ নিশ্চিত করা।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সংযোগ নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করবে এবং মানুষ কোথায় বসবাস করে, তার ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সরকারের অঙ্গীকারেও এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনী ইশতেহারে আইসিটি ও টেলিযোগাযোগকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য শিল্পে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এই যাত্রায় স্পেকট্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ডেটার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ফাইভ-জি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ভবিষ্যতের অন্যান্য ওয়্যারলেস প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে।

এসব প্রযুক্তির বিকাশে এমন দূরদর্শী নীতি প্রয়োজন, যা উদ্ভাবন ও বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় এডব্লিউজি-৩৭ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন টেলিযোগাযোগ ভাবনার সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সংযোগ ঘটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা থেকে শেখা এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

নতুন প্রযুক্তি নানা সুযোগ তৈরি করলেও এর সুফল নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি, সক্ষম প্রতিষ্ঠান এবং সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিল্প খাতসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উদীয়মান ডিজিটাল চাহিদা পূরণে বিভিন্ন ওয়্যারলেস ব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে কাজ করে। পাশাপাশি কার্যকর রেডিও যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card