নিউইয়র্ক ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে সীমিত হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ০১:৫৪:০৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা ঠেকাতে দেশটির ভূখণ্ডে সীমিত হামলার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে থাকা ইরানের দ্বীপগুলোতে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন ঠেকাতেই এমন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছেন তিন মার্কিন কর্মকর্তা। তাঁদের আশঙ্কা, ইরান রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ফের হামলা চালাতে পারে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ড সেন্টকম গত সপ্তাহে সীমিত হামলার এ পরিকল্পনা তৈরি করে। পরিকল্পনাটিতে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

গত রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার সময়ও এ ধরনের হামলার পক্ষে অবস্থান নেননি ট্রাম্প। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় এবার তিনি পরিকল্পনাটিতে অনুমোদন দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই মাসে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি সামরিক স্থাপনায় হামলা, সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণ এবং জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেওয়ার মাধ্যমে এ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এর ফলে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বেড়েছে এবং ওই পথ দিয়ে তেল রপ্তানিও অব্যাহত রয়েছে।

তবে ইরান এখন আবারও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এর অংশ হিসেবে দেশটি রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে আরও নির্ভুলভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি একটি জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধবিমানটির জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করতে পারেনি। তবে ঘটনাটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ফের হামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তার কথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ, সেনাপ্রধান ড্যান কেইন এবং প্রেসিডেন্টের দপ্তরকে জানিয়েছে সেন্টকম।

তবে সেন্টকমের এমন সুপারিশের পরও প্রেসিডেন্টের দপ্তর নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার পক্ষে ছিল। কিন্তু ইরান সোমবার জর্ডানে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে এক্সিওস।

সূত্র: এক্সিওস

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

পুলিশের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিল পাকিস্তানে তৈরি ‘টেসলা’

ক্যাফের ‘বিশেষ কেবিনে’ অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল দক্ষিণ কোরিয়া

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানে সীমিত হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০১:৫৪:০৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা ঠেকাতে দেশটির ভূখণ্ডে সীমিত হামলার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে থাকা ইরানের দ্বীপগুলোতে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন ঠেকাতেই এমন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছেন তিন মার্কিন কর্মকর্তা। তাঁদের আশঙ্কা, ইরান রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ফের হামলা চালাতে পারে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ড সেন্টকম গত সপ্তাহে সীমিত হামলার এ পরিকল্পনা তৈরি করে। পরিকল্পনাটিতে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

গত রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার সময়ও এ ধরনের হামলার পক্ষে অবস্থান নেননি ট্রাম্প। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় এবার তিনি পরিকল্পনাটিতে অনুমোদন দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই মাসে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি সামরিক স্থাপনায় হামলা, সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণ এবং জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেওয়ার মাধ্যমে এ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এর ফলে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বেড়েছে এবং ওই পথ দিয়ে তেল রপ্তানিও অব্যাহত রয়েছে।

তবে ইরান এখন আবারও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এর অংশ হিসেবে দেশটি রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে আরও নির্ভুলভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি একটি জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধবিমানটির জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করতে পারেনি। তবে ঘটনাটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ফের হামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তার কথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ, সেনাপ্রধান ড্যান কেইন এবং প্রেসিডেন্টের দপ্তরকে জানিয়েছে সেন্টকম।

তবে সেন্টকমের এমন সুপারিশের পরও প্রেসিডেন্টের দপ্তর নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার পক্ষে ছিল। কিন্তু ইরান সোমবার জর্ডানে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে এক্সিওস।

সূত্র: এক্সিওস

Share this news as a Photo Card