নিউইয়র্ক ০২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যাফের ‘বিশেষ কেবিনে’ অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল দক্ষিণ কোরিয়া

  • আপডেটের সময় : ০১:৩৫:৩৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

টেলিভিশন, মাদুর ও বিছানাসদৃশ সুবিধাযুক্ত এবং বাইরে থেকে সহজে আড়াল করা যায়—এমন কোনো বাণিজ্যিক ক্যাফের কেবিনে নির্দিষ্ট নীতিমালা পূরণ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত গোপনীয় পরিবেশসংবলিত এ ধরনের কক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে।

স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুয়ন শহরের একটি কেবিনযুক্ত ক্যাফে পরিচালকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলার সূত্রে সুপ্রিম কোর্ট এই চূড়ান্ত রায় দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই ক্যাফেতে বয়স যাচাই ছাড়াই ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী আট কিশোর-কিশোরীকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ১৬টি কক্ষবিশিষ্ট ওই ক্যাফেতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধসংক্রান্ত কোনো সতর্কবার্তা বা সাইনবোর্ড ছিল না। এছাড়া ১৬টি কক্ষের মধ্যে মাত্র দুটিতে স্বচ্ছ জানালা ছিল এবং বাকি ১৪টি কক্ষের দরজা বন্ধ করলে ভেতরের দৃশ্য বাইরে থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যেত।

মামলার প্রাথমিক রায়ে নিম্ন আদালত সংশ্লিষ্ট ক্যাফে মালিককে ২০ লাখ ওন জরিমানা করেছিলেন। তবে আপিল আদালত তাঁকে খালাস দেন এই যুক্তিতে যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধের আইনটি মূলত কর্মী ও গ্রাহকদের মধ্যে কিংবা অপরিচিতদের মধ্যে সরাসরি শারীরিক যোগাযোগের সুযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আপিল আদালতের এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ধরন এবং সেখানে থাকা সুযোগ-সুবিধা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তাও আইনগতভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘রুম ক্যাফে’ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। একটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছোট ছোট ব্যক্তিগত বুথ বা আলাদা কক্ষে অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকেরা সিনেমা দেখা, ভিডিও গেম খেলা, খাবার খাওয়া কিংবা আড্ডার সুযোগ পেয়ে থাকেন। অনেক কক্ষে মাদুর ও বালিশের মতো বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকে, যা সাধারণ ক্যাফের তুলনায় অনেক বেশি ব্যক্তিগত পরিসর তৈরি করে। ২০২৪ সালে দেশটির ১৫ হাজার ৫৩ জন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত সরকারি এক জরিপে দেখা যায়, বিগত এক বছরে প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্তত একবার রুম ক্যাফেতে গেছে।তবে আদালতের এই নির্দেশনার অর্থ সব রুম ক্যাফেতেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ রদ হওয়া নয়। ২০২৩ সালের মে মাসে দেশটির জেন্ডার সমতা ও পরিবার মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি জারি করে। মন্ত্রণালয় নির্ধারিত শর্তানুযায়ী, করিডরের দিকের দেয়াল এবং প্রবেশদ্বারের দরজা ১ দশমিক ৩ থেকে ২ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পুরোপুরি স্বচ্ছ হতে হবে। পাশাপাশি কক্ষে কোনো ধরনের তালা ব্যবহারের সুযোগ রাখা যাবে না এবং জানালায় পর্দা, ব্লাইন্ড বা অস্বচ্ছ স্টিকার ব্যবহার করা যাবে না। কেবল এই শর্তগুলো বাস্তবায়িত হলেই অপ্রাপ্তবয়স্করা এসব ক্যাফে ব্যবহারের অনুমতি পাবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পুলিশের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিল পাকিস্তানে তৈরি ‘টেসলা’

ক্যাফের ‘বিশেষ কেবিনে’ অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল দক্ষিণ কোরিয়া

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ক্যাফের ‘বিশেষ কেবিনে’ অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল দক্ষিণ কোরিয়া

আপডেটের সময় : ০১:৩৫:৩৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেলিভিশন, মাদুর ও বিছানাসদৃশ সুবিধাযুক্ত এবং বাইরে থেকে সহজে আড়াল করা যায়—এমন কোনো বাণিজ্যিক ক্যাফের কেবিনে নির্দিষ্ট নীতিমালা পূরণ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত গোপনীয় পরিবেশসংবলিত এ ধরনের কক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে।

স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুয়ন শহরের একটি কেবিনযুক্ত ক্যাফে পরিচালকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলার সূত্রে সুপ্রিম কোর্ট এই চূড়ান্ত রায় দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই ক্যাফেতে বয়স যাচাই ছাড়াই ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী আট কিশোর-কিশোরীকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ১৬টি কক্ষবিশিষ্ট ওই ক্যাফেতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধসংক্রান্ত কোনো সতর্কবার্তা বা সাইনবোর্ড ছিল না। এছাড়া ১৬টি কক্ষের মধ্যে মাত্র দুটিতে স্বচ্ছ জানালা ছিল এবং বাকি ১৪টি কক্ষের দরজা বন্ধ করলে ভেতরের দৃশ্য বাইরে থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যেত।

মামলার প্রাথমিক রায়ে নিম্ন আদালত সংশ্লিষ্ট ক্যাফে মালিককে ২০ লাখ ওন জরিমানা করেছিলেন। তবে আপিল আদালত তাঁকে খালাস দেন এই যুক্তিতে যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধের আইনটি মূলত কর্মী ও গ্রাহকদের মধ্যে কিংবা অপরিচিতদের মধ্যে সরাসরি শারীরিক যোগাযোগের সুযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আপিল আদালতের এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ধরন এবং সেখানে থাকা সুযোগ-সুবিধা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তাও আইনগতভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘রুম ক্যাফে’ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। একটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছোট ছোট ব্যক্তিগত বুথ বা আলাদা কক্ষে অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকেরা সিনেমা দেখা, ভিডিও গেম খেলা, খাবার খাওয়া কিংবা আড্ডার সুযোগ পেয়ে থাকেন। অনেক কক্ষে মাদুর ও বালিশের মতো বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকে, যা সাধারণ ক্যাফের তুলনায় অনেক বেশি ব্যক্তিগত পরিসর তৈরি করে। ২০২৪ সালে দেশটির ১৫ হাজার ৫৩ জন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত সরকারি এক জরিপে দেখা যায়, বিগত এক বছরে প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্তত একবার রুম ক্যাফেতে গেছে।তবে আদালতের এই নির্দেশনার অর্থ সব রুম ক্যাফেতেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ রদ হওয়া নয়। ২০২৩ সালের মে মাসে দেশটির জেন্ডার সমতা ও পরিবার মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি জারি করে। মন্ত্রণালয় নির্ধারিত শর্তানুযায়ী, করিডরের দিকের দেয়াল এবং প্রবেশদ্বারের দরজা ১ দশমিক ৩ থেকে ২ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পুরোপুরি স্বচ্ছ হতে হবে। পাশাপাশি কক্ষে কোনো ধরনের তালা ব্যবহারের সুযোগ রাখা যাবে না এবং জানালায় পর্দা, ব্লাইন্ড বা অস্বচ্ছ স্টিকার ব্যবহার করা যাবে না। কেবল এই শর্তগুলো বাস্তবায়িত হলেই অপ্রাপ্তবয়স্করা এসব ক্যাফে ব্যবহারের অনুমতি পাবে।

Share this news as a Photo Card