নিউইয়র্ক ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের দাবি ছেলে মুসলিম, বাবার হিন্দু; ৫ দিন পর দাফনের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের

  • আপডেটের সময় : ০২:০৫:০৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়ে মা-বাবার চরম দোটানা এবং দীর্ঘ পাঁচ দিন ফ্রিজিং গাড়িতে মরদেহ পড়ে থাকার পর আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্মান্তরিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত বিল্লাল হোসেনের মরদেহ ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ীই দাফন করা হবে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় বিল্লালকে হত্যা করা হয়। এরপরই তার মরদেহ দাফন নাকি দাহ করা হবে—তা নিয়ে শুরু হয় নজিরবিহীন আইনি ও পারিবারিক জটিলতা।

নিহত যুবকের জন্মসূত্রে নাম ছিল শুভ এবং বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি ছিল তার ছেলে হিন্দু ধর্মের অনুসারী, তাই সনাতন রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাহ করতে হবে। পক্ষান্তরে মা আয়েশা বেগমের দাবি ছিল, ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি ও তার ছেলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং শুভ নাম পরিবর্তন করে হলফনামার মাধ্যমে ‘বিল্লাল’ রাখেন। এমনকি মুসলিম রীতিতেই বিল্লালের বিয়ে হয়েছিল এবং তার একটি দুই বছরের সন্তানও রয়েছে। বাবা ও মায়ের এই বিপরীত দাবির কারণে পুলিশ সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে যায় এবং মরদেহ একটি ফ্রিজিং গাড়িতে সংরক্ষণ করে। শেষ পর্যন্ত সঠিক সমাধান পেতে পুলিশ বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়।

হাইকোর্টে মামলার শুনানিকালে নিহত যুবকের ভাই পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করে শোনান এবং জানান যে তারা দুই ভাই একসঙ্গে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে আইনি মতামত তুলে ধরে বলেন, বিল্লাল যদি মুসলমান না হয়ে থাকেন, তবে তার বিবাহ এবং দুই বছরের সন্তানের বৈধতা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বড় সংকট তৈরি হবে।

আদালত লক্ষ্য করেন যে মৃত ব্যক্তির মা, ভাই, স্ত্রী ও সন্তান সকলেই আদালতে উপস্থিত হয়ে নিশ্চিত করেছেন যে তারা ইসলাম ধর্ম পালন করেন এবং ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ীই তার দাফন সম্পন্ন হওয়া উচিত। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এবং সন্তানের বৈধতা ও পারিবারিক পরিচয়ের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হাইকোর্ট বিল্লালের মরদেহ ইসলামি রীতিতে দাফনের চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে ৬৪ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির দায়ে বাংলাদেশি নারীর কারাদণ্ড

শনিবার শুরু হচ্ছে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মায়ের দাবি ছেলে মুসলিম, বাবার হিন্দু; ৫ দিন পর দাফনের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের

আপডেটের সময় : ০২:০৫:০৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়ে মা-বাবার চরম দোটানা এবং দীর্ঘ পাঁচ দিন ফ্রিজিং গাড়িতে মরদেহ পড়ে থাকার পর আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্মান্তরিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত বিল্লাল হোসেনের মরদেহ ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ীই দাফন করা হবে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় বিল্লালকে হত্যা করা হয়। এরপরই তার মরদেহ দাফন নাকি দাহ করা হবে—তা নিয়ে শুরু হয় নজিরবিহীন আইনি ও পারিবারিক জটিলতা।

নিহত যুবকের জন্মসূত্রে নাম ছিল শুভ এবং বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি ছিল তার ছেলে হিন্দু ধর্মের অনুসারী, তাই সনাতন রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাহ করতে হবে। পক্ষান্তরে মা আয়েশা বেগমের দাবি ছিল, ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি ও তার ছেলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং শুভ নাম পরিবর্তন করে হলফনামার মাধ্যমে ‘বিল্লাল’ রাখেন। এমনকি মুসলিম রীতিতেই বিল্লালের বিয়ে হয়েছিল এবং তার একটি দুই বছরের সন্তানও রয়েছে। বাবা ও মায়ের এই বিপরীত দাবির কারণে পুলিশ সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে যায় এবং মরদেহ একটি ফ্রিজিং গাড়িতে সংরক্ষণ করে। শেষ পর্যন্ত সঠিক সমাধান পেতে পুলিশ বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়।

হাইকোর্টে মামলার শুনানিকালে নিহত যুবকের ভাই পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করে শোনান এবং জানান যে তারা দুই ভাই একসঙ্গে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে আইনি মতামত তুলে ধরে বলেন, বিল্লাল যদি মুসলমান না হয়ে থাকেন, তবে তার বিবাহ এবং দুই বছরের সন্তানের বৈধতা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বড় সংকট তৈরি হবে।

আদালত লক্ষ্য করেন যে মৃত ব্যক্তির মা, ভাই, স্ত্রী ও সন্তান সকলেই আদালতে উপস্থিত হয়ে নিশ্চিত করেছেন যে তারা ইসলাম ধর্ম পালন করেন এবং ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ীই তার দাফন সম্পন্ন হওয়া উচিত। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এবং সন্তানের বৈধতা ও পারিবারিক পরিচয়ের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হাইকোর্ট বিল্লালের মরদেহ ইসলামি রীতিতে দাফনের চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন।

Share this news as a Photo Card