নিউইয়র্ক ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় বছর পর ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্যে নতুন মোড়: আদালতে এল কোভিড-১৯ তত্ত্ব

  • আপডেটের সময় : ০৩:০৯:৩৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর তার মত্যু নিয়ে চলা বিচারিক প্রক্রিয়ায় সামনে এল এক নতুন তত্ত্ব। দীর্ঘ ৪৩টি শুনানিতে ৭৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেও ৪৪তম শুনানিতে এসে একেবারে ভিন্ন এক দিক তুলে ধরেন শেষ সাক্ষী ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি। তার মতে, করোনাভাইরাসে ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়েছিল—এই সম্ভাবনা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে বুয়েনস এইরেসের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ম্যারাডোনা। সরকারি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক পাবলো ফেরারি আদালতে জানান, করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে অত্যন্ত কম সময়ে গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

ময়নাতদন্তের সময় কভিড শনাক্তের পরীক্ষা না করাকে তিনি ‘পদ্ধতিগত ভুল’ বলে অভিহিত করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে প্রধান আসামি লিওপোলদো লুকের অনুরোধে করা একটি বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ফেরারি।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগের যন্ত্রণার সময়কাল নিয়ে অন্য সরকারি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেছেন ফেরারি। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ম্যারাডোনার ফুসফুসে মাত্র কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তরল জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও পরবর্তীতে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হতে পারে। এর আগে অন্যান্য সরকারি বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছিলেন যে মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে যন্ত্রণায় ভুগেছিলেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দেওয়া আকস্মিক মৃত্যুর তত্ত্বের সঙ্গে ফেরারির এই ব্যাখ্যা মিলে যায়, যা প্রধান চিকিৎসক লিওপোলদো লুকসহ অন্য অভিযুক্তদের আইনি সুরক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান চিকিৎসক লুক ছাড়াও বিচারের মুখোমুখি হওয়া অপর ছয় চিকিৎসাকর্মী হলেন—মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আগুস্তিনা কোসাচভ, চিকিৎসাসমন্বয়কারী ন্যান্সি ফোরলিনি, মনোবিজ্ঞানী কার্লোস দিয়াজ, নার্সিং সমন্বয়কারী মারিয়ানো পেরোনি, নার্স রিকার্দো আলমিরন এবং চিকিৎসক পেদ্রো দি স্পানিয়া। সম্ভাব্য পরিণতি জেনেও অবহেলার মাধ্যমে সাধারণ হত্যার অভিযোগে তাঁদের বিচার চলছে।

মামলাটি এখন শেষের পথে রয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বক্তব্য আরও বিস্তারিতভাবে শুনবেন। এরপর আগামী ৬ অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যেই পুরো বিচারপ্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ছয় বছর পর ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্যে নতুন মোড়: আদালতে এল কোভিড-১৯ তত্ত্ব

আপডেটের সময় : ০৩:০৯:৩৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর তার মত্যু নিয়ে চলা বিচারিক প্রক্রিয়ায় সামনে এল এক নতুন তত্ত্ব। দীর্ঘ ৪৩টি শুনানিতে ৭৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেও ৪৪তম শুনানিতে এসে একেবারে ভিন্ন এক দিক তুলে ধরেন শেষ সাক্ষী ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি। তার মতে, করোনাভাইরাসে ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়েছিল—এই সম্ভাবনা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে বুয়েনস এইরেসের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ম্যারাডোনা। সরকারি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক পাবলো ফেরারি আদালতে জানান, করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে অত্যন্ত কম সময়ে গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

ময়নাতদন্তের সময় কভিড শনাক্তের পরীক্ষা না করাকে তিনি ‘পদ্ধতিগত ভুল’ বলে অভিহিত করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে প্রধান আসামি লিওপোলদো লুকের অনুরোধে করা একটি বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ফেরারি।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগের যন্ত্রণার সময়কাল নিয়ে অন্য সরকারি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেছেন ফেরারি। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ম্যারাডোনার ফুসফুসে মাত্র কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তরল জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও পরবর্তীতে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হতে পারে। এর আগে অন্যান্য সরকারি বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছিলেন যে মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে যন্ত্রণায় ভুগেছিলেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দেওয়া আকস্মিক মৃত্যুর তত্ত্বের সঙ্গে ফেরারির এই ব্যাখ্যা মিলে যায়, যা প্রধান চিকিৎসক লিওপোলদো লুকসহ অন্য অভিযুক্তদের আইনি সুরক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান চিকিৎসক লুক ছাড়াও বিচারের মুখোমুখি হওয়া অপর ছয় চিকিৎসাকর্মী হলেন—মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আগুস্তিনা কোসাচভ, চিকিৎসাসমন্বয়কারী ন্যান্সি ফোরলিনি, মনোবিজ্ঞানী কার্লোস দিয়াজ, নার্সিং সমন্বয়কারী মারিয়ানো পেরোনি, নার্স রিকার্দো আলমিরন এবং চিকিৎসক পেদ্রো দি স্পানিয়া। সম্ভাব্য পরিণতি জেনেও অবহেলার মাধ্যমে সাধারণ হত্যার অভিযোগে তাঁদের বিচার চলছে।

মামলাটি এখন শেষের পথে রয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বক্তব্য আরও বিস্তারিতভাবে শুনবেন। এরপর আগামী ৬ অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যেই পুরো বিচারপ্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Share this news as a Photo Card