কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া রেলস্টেশন বাজারে আচার খাওয়াকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়া বিক্ষুব্ধ জনতা কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মনোহরগঞ্জের হাতীমারা ও নাঙ্গলকোটের পুজকরা গ্রামের লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে নাথেরপেটুয়া রেলস্টেশন বাজারে হাতীমারা গ্রামের এক নারীর কাছে পুজকরা গ্রামের এক আচার বিক্রেতা আচার খাওয়ার প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওই নারীর স্বামী আচার বিক্রেতাকে মারধর করেন। এই ঘটনার জের ধরেই বৃহস্পতিবার সকালে উভয় গ্রামের শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষের সময় নাঙ্গলকোটের একটি মিলফ্যাক্টরি ও তিনটি দোকানঘর এবং হাতীমারা গ্রামের দুটি দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। সংঘর্ষে হাতীমারা গ্রামের পারভেজ ও পুজকরা গ্রামের রাকীবসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন।
উত্তেজিত জনতা সংঘর্ষ চলাকালীন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার ও খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে। এর ফলে প্রায় এক ঘণ্টা ওই আঞ্চলিক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
খবর পেয়ে লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম সার্কেলের পুলিশ কর্মকর্তা, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট এবং লাকসাম থানার পুলিশ দল ও কুমিল্লা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


























