নিউইয়র্ক ১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিখোঁজের ছয় দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক

  • আপডেটের সময় : ০১:৫১:১৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজু আক্তার (৩৫) নামের এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাজুর সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজুকে হত্যা করে নদের পাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নুরুল।

আটক নুরুল আমীন নগুয়া কুশলগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। নিহত নাজমা আক্তার সদর উপজেলার কাটলী এলাকার ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে।

নাজু ও নুরুলের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর প্রায় আড়াই বছর আগে তাদের মধ্যে দুই দফা বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দেনমোহরের টাকা হিসেবে নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

পরে নাজু নুরুলের বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের মামলা করেন। মামলা মীমাংসার জন্য তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জমির কীটনাশক কিনতে নুরুল আমীন নেত্রকোনা শহরে গেলে নাজমা তাকে ফোন করেন। পরে বড়বাজার এলাকায় তাদের দেখা হয়। সেখানে নাজমা নুরুলের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে স্থানীয় লোকজন তাদের সরিয়ে দেন।

পরে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নাজমাকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় রাজুর বাজারে যান নুরুল আমীন। সেখান থেকে ভাড়া করা মোটরসাইকেলে তারা মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুড়া ব্রিজ এলাকায় যান।

পুলিশের ভাষ্য, বাড়ির কাছাকাছি খাটপুড়া সেতুর কাছে আবারও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে কাধে করে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে নুরুল। এরপর মরদেহটি বাড়ির পাশে ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

নাজু বাড়িতে না ফেরায় ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে নুরুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নুরুলের দেখানো স্থান থেকে নাজুর ব্যবহৃত ওড়না, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নদীর পাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় নাজমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে নাজমা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

নিখোঁজের ছয় দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক

আপডেটের সময় : ০১:৫১:১৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজু আক্তার (৩৫) নামের এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাজুর সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজুকে হত্যা করে নদের পাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নুরুল।

আটক নুরুল আমীন নগুয়া কুশলগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। নিহত নাজমা আক্তার সদর উপজেলার কাটলী এলাকার ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে।

নাজু ও নুরুলের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর প্রায় আড়াই বছর আগে তাদের মধ্যে দুই দফা বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দেনমোহরের টাকা হিসেবে নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

পরে নাজু নুরুলের বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের মামলা করেন। মামলা মীমাংসার জন্য তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জমির কীটনাশক কিনতে নুরুল আমীন নেত্রকোনা শহরে গেলে নাজমা তাকে ফোন করেন। পরে বড়বাজার এলাকায় তাদের দেখা হয়। সেখানে নাজমা নুরুলের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে স্থানীয় লোকজন তাদের সরিয়ে দেন।

পরে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নাজমাকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় রাজুর বাজারে যান নুরুল আমীন। সেখান থেকে ভাড়া করা মোটরসাইকেলে তারা মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুড়া ব্রিজ এলাকায় যান।

পুলিশের ভাষ্য, বাড়ির কাছাকাছি খাটপুড়া সেতুর কাছে আবারও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে কাধে করে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে নুরুল। এরপর মরদেহটি বাড়ির পাশে ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

নাজু বাড়িতে না ফেরায় ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে নুরুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নুরুলের দেখানো স্থান থেকে নাজুর ব্যবহৃত ওড়না, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নদীর পাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় নাজমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে নাজমা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card