নিউইয়র্ক ০৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিমলুং হিমাল পর্বতে তুষারধস, নিখোঁজ ১৪ নেপালি

  • আপডেটের সময় : ০১:৪৩:০৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নেপালের হিমালয়ে আবারও ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে। মানাং জেলার নার ফু এলাকায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমাল পর্বতের শিবিরে তুষারধসে অন্তত ১৪ জন নেপালি নিখোঁজ হয়েছেন।

শেরপা, পর্বতারোহী দলের সহায়ক কর্মী ও রান্নার কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা নিখোঁজ রয়েছেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। এতে উদ্বেগ বাড়ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হিমলুং হিমালের শিবির থেকে প্রথমে আটজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা যায়। পরে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ১৪ এ দাঁড়ায়। হিমালয়ান হলিডেজ ট্রেকিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিভূতি চন্দ্র ঠাকুর জানিয়েছেন, নিখোঁজ সবাই নেপালি। বিদেশি পর্বতারোহীরা এখনো ওই পর্বতে পৌঁছাননি।

আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে তাদের সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। বিদেশি দল পৌঁছানোর আগেই নেপালি কর্মীদের একটি দলকে পাহাড়ে পাঠানো হয়েছিল। তাদের কাজ ছিল শিবির প্রস্তুত করা, পথ পরিষ্কার করা, অভিযানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং দড়ি স্থাপন করা। সেই দলই তুষারধসের সময় সেখানে ছিল।

ঠাকুর জানান, রোববার সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে হিমলুংয়ে থাকা এক শেরপা হেলিকপ্টার পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করেন। তখন আটজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর নিখোঁজের সংখ্যা ১৪ জনে পৌঁছে।

উদ্ধারকাজে বেসরকারি হেলিকপ্টার কাঠমান্ডু ও পোখরায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নেপালের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে কোনো হেলিকপ্টার এখনো হিমলুংয়ের দিকে উড়তে পারেনি। স্থলপথেও দ্রুত উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে আকাশপথে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

নেপালের পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক রামকৃষ্ণ লামিছানে জানিয়েছেন, সরকার উদ্ধার তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে রান্নার কর্মী, শেরপা গাইড এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীরা রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হিমলুং হিমাল তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি মানাং জেলার নার ফু এলাকায় অবস্থিত। দুর্গম এই পর্বতে হেলিকপ্টার চলাচলের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অনুমতির প্রয়োজন হয়। ফলে খারাপ আবহাওয়ার সঙ্গে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক জটিলতাও উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।

গত কয়েক দিন ধরে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও তুষারপাত চলছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড়, প্রবল বাতাস এবং উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সতর্কতা জারি করেছিল নেপালের পর্যটন বিভাগ। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পর্বতারোহী ও পর্যটকদের অভিযান স্থগিত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।

নেপালের অন্য পর্বতারোহণ অভিযানেও খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে । মানাসলু ও ধবলগিরি অভিযানের একাধিক দল নিচে নেমে এসেছে। কোথাও অভিযান স্থগিত, কোথাও আবার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হিমলুংয়ের ঘটনায় এখন মূল লক্ষ্য নিখোঁজ ১৪ জনকে খুঁজে বের করা। কিন্তু পাহাড়ে অব্যাহত তুষারপাত এবং হেলিকপ্টার উড়তে না পারায় সময় যত গড়াচ্ছে, উদ্বেগ ততই বাড়ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হিমলুং হিমাল পর্বতে তুষারধস, নিখোঁজ ১৪ নেপালি

আপডেটের সময় : ০১:৪৩:০৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের হিমালয়ে আবারও ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে। মানাং জেলার নার ফু এলাকায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমাল পর্বতের শিবিরে তুষারধসে অন্তত ১৪ জন নেপালি নিখোঁজ হয়েছেন।

শেরপা, পর্বতারোহী দলের সহায়ক কর্মী ও রান্নার কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা নিখোঁজ রয়েছেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। এতে উদ্বেগ বাড়ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হিমলুং হিমালের শিবির থেকে প্রথমে আটজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা যায়। পরে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ১৪ এ দাঁড়ায়। হিমালয়ান হলিডেজ ট্রেকিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিভূতি চন্দ্র ঠাকুর জানিয়েছেন, নিখোঁজ সবাই নেপালি। বিদেশি পর্বতারোহীরা এখনো ওই পর্বতে পৌঁছাননি।

আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে তাদের সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। বিদেশি দল পৌঁছানোর আগেই নেপালি কর্মীদের একটি দলকে পাহাড়ে পাঠানো হয়েছিল। তাদের কাজ ছিল শিবির প্রস্তুত করা, পথ পরিষ্কার করা, অভিযানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং দড়ি স্থাপন করা। সেই দলই তুষারধসের সময় সেখানে ছিল।

ঠাকুর জানান, রোববার সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে হিমলুংয়ে থাকা এক শেরপা হেলিকপ্টার পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করেন। তখন আটজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর নিখোঁজের সংখ্যা ১৪ জনে পৌঁছে।

উদ্ধারকাজে বেসরকারি হেলিকপ্টার কাঠমান্ডু ও পোখরায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নেপালের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে কোনো হেলিকপ্টার এখনো হিমলুংয়ের দিকে উড়তে পারেনি। স্থলপথেও দ্রুত উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে আকাশপথে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

নেপালের পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক রামকৃষ্ণ লামিছানে জানিয়েছেন, সরকার উদ্ধার তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে রান্নার কর্মী, শেরপা গাইড এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীরা রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হিমলুং হিমাল তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি মানাং জেলার নার ফু এলাকায় অবস্থিত। দুর্গম এই পর্বতে হেলিকপ্টার চলাচলের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অনুমতির প্রয়োজন হয়। ফলে খারাপ আবহাওয়ার সঙ্গে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক জটিলতাও উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।

গত কয়েক দিন ধরে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও তুষারপাত চলছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড়, প্রবল বাতাস এবং উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সতর্কতা জারি করেছিল নেপালের পর্যটন বিভাগ। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পর্বতারোহী ও পর্যটকদের অভিযান স্থগিত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।

নেপালের অন্য পর্বতারোহণ অভিযানেও খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে । মানাসলু ও ধবলগিরি অভিযানের একাধিক দল নিচে নেমে এসেছে। কোথাও অভিযান স্থগিত, কোথাও আবার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হিমলুংয়ের ঘটনায় এখন মূল লক্ষ্য নিখোঁজ ১৪ জনকে খুঁজে বের করা। কিন্তু পাহাড়ে অব্যাহত তুষারপাত এবং হেলিকপ্টার উড়তে না পারায় সময় যত গড়াচ্ছে, উদ্বেগ ততই বাড়ছে।

Share this news as a Photo Card