নিউইয়র্ক ০৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যামিলি কার্ডে দুর্নীতি করলে সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

  • আপডেটের সময় : ১১:৫৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, আমি নির্বাচনের আগেও পকেটে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ঘুরেছি এবং স্পষ্ট বলেছিলাম—কার্ড নিয়ে দুর্নীতি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আজও সতর্ক করছি, এবারও ব্যত্যয় ঘটলে ছাড় দেওয়া হবে না, সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬’ এবং ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-২০২৬’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। পূর্বে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে কাজ না করলেও তাদের সততার অভাব ছিল। যে কারণে তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেননি। অতীতে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের সময় দেখা গেছে, সুবিধা পাওয়ার কথা যাদের, তাদের না দিয়ে বিল্ডিংয়ে বসবাসকারী স্বচ্ছল ব্যক্তি বা বিবাহসূত্রে অন্য উপজেলায় চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কলমাকান্দা-দুর্গাপুরবাসীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন বলেই প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলক যে ২-৩টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছিল, তার মধ্যে কলমাকান্দাকে রেখেছিলেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রাহকদের অনিয়মের কারণে এই ভালোবাসার অপব্যবহার হয়েছিল। বিষয়টি ঢাকায় তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী তা আমলে নেন এবং তথ্য সংগ্রহের পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেংগুড়াতে এসে দুদিন অবস্থান করে মাঠপর্যায়ের সমস্যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন।

তথ্য সংগ্রাহকদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এবার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করতে হবে একদম ছাঁপরা ঘর বা গৃহহীন অসহায় মহিলাদের বাড়ি থেকে। পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নাম তালিকায় আনতে হবে। ভুলবশতও যেন শুরুতেই বিল্ডিং বা হাফ-বিল্ডিংয়ের অধিবাসীদের নাম না দেওয়া হয়। যদিও সরকারের প্যাকেজে প্রতিটি নাগরিকেরই কার্ড পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তবে অগ্রাধিকার পাবে অসচ্ছল মানুষ।

মাঠপর্যায়ের গাফিলতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বলা হয়েছিল, তথ্য সংগ্রাহকেরা এমন বাড়িতে যান যেখানে বসে এক কাপ চা বা নুডুলস খাওয়া যায়। কিন্তু দরিদ্রের কুঁড়েঘরে বসতে পারবেন না বলে সেখানে যান না। এবার এই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। সর্বশেষ দরিদ্র ব্যক্তিটির কাছে আগে যেতে হবে।

দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, সরকার আপনাদের কষ্টের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানী দিচ্ছে। এর বাইরে কোনো দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি করলে দুটিই সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আমি নির্বাচনের আগেও পকেটে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ঘুরেছি এবং স্পষ্ট বলেছিলাম—কার্ড নিয়ে দুর্নীতি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আজও সতর্ক করছি, এবারও ব্যত্যয় ঘটলে ছাড় দেওয়া হবে না, সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ফ্যামিলি কার্ডে দুর্নীতি করলে সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

আপডেটের সময় : ১১:৫৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, আমি নির্বাচনের আগেও পকেটে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ঘুরেছি এবং স্পষ্ট বলেছিলাম—কার্ড নিয়ে দুর্নীতি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আজও সতর্ক করছি, এবারও ব্যত্যয় ঘটলে ছাড় দেওয়া হবে না, সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬’ এবং ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-২০২৬’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। পূর্বে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে কাজ না করলেও তাদের সততার অভাব ছিল। যে কারণে তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেননি। অতীতে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের সময় দেখা গেছে, সুবিধা পাওয়ার কথা যাদের, তাদের না দিয়ে বিল্ডিংয়ে বসবাসকারী স্বচ্ছল ব্যক্তি বা বিবাহসূত্রে অন্য উপজেলায় চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কলমাকান্দা-দুর্গাপুরবাসীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন বলেই প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলক যে ২-৩টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছিল, তার মধ্যে কলমাকান্দাকে রেখেছিলেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রাহকদের অনিয়মের কারণে এই ভালোবাসার অপব্যবহার হয়েছিল। বিষয়টি ঢাকায় তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী তা আমলে নেন এবং তথ্য সংগ্রহের পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেংগুড়াতে এসে দুদিন অবস্থান করে মাঠপর্যায়ের সমস্যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন।

তথ্য সংগ্রাহকদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এবার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করতে হবে একদম ছাঁপরা ঘর বা গৃহহীন অসহায় মহিলাদের বাড়ি থেকে। পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নাম তালিকায় আনতে হবে। ভুলবশতও যেন শুরুতেই বিল্ডিং বা হাফ-বিল্ডিংয়ের অধিবাসীদের নাম না দেওয়া হয়। যদিও সরকারের প্যাকেজে প্রতিটি নাগরিকেরই কার্ড পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তবে অগ্রাধিকার পাবে অসচ্ছল মানুষ।

মাঠপর্যায়ের গাফিলতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বলা হয়েছিল, তথ্য সংগ্রাহকেরা এমন বাড়িতে যান যেখানে বসে এক কাপ চা বা নুডুলস খাওয়া যায়। কিন্তু দরিদ্রের কুঁড়েঘরে বসতে পারবেন না বলে সেখানে যান না। এবার এই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। সর্বশেষ দরিদ্র ব্যক্তিটির কাছে আগে যেতে হবে।

দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, সরকার আপনাদের কষ্টের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানী দিচ্ছে। এর বাইরে কোনো দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি করলে দুটিই সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আমি নির্বাচনের আগেও পকেটে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ঘুরেছি এবং স্পষ্ট বলেছিলাম—কার্ড নিয়ে দুর্নীতি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আজও সতর্ক করছি, এবারও ব্যত্যয় ঘটলে ছাড় দেওয়া হবে না, সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।

Share this news as a Photo Card