নিউইয়র্ক ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, অক্টোবরে চুক্তি: বিমানমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ১২:৩১:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার। এ নিয়ে অক্টোবরেই চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী জানান, সব মিলিয়ে ৩৫টি নতুন কেনা এবং বর্তমানে থাকা ১৭টি নিয়ে ৫০টির বেশি এয়ারক্রাফট থাকবে ফ্লিটে। নতুন কেনা বিমানগুলো আসতে ২০৩৬ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত লাগতে পারে। ১০টি এয়ারক্রাফট লিজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে ১৪টি এবং পরে ১১টি, সব মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ পর্যন্ত মোট ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ন্যারো বডি ১১, ওয়াইড বডি ১৪টি। মোট ৬.৪ বিলিয়ন ডলার লাগছে।’

বিমানমন্ত্রী জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম এয়ারক্রাফট আসবে ২০৩১ সালে। একটি হলেও ২০২৭–২৮ সালে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবগুলো বিমান আসতে ২০৩৫-৩৬ সাল লাগবে। আপাতত টাকা এখনই দিতে হচ্ছে না, গ্যারান্টি দিচ্ছি। একটা করে বিমান দেবে তারপর টাকা দেব। এ টাকা ফ্লিটের আয় থেকেই দিতে পারব আশা করি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অ্যাভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করা দরকার। অ্যাভিয়েশন খাত খুবই নাজুক। ইথিওপিয়ার জিডিপিক খাত আমাদের চেয়ে অনেক কম, কিন্তু তাদের এয়ারলাইন্স ১৬৭ ফ্লিট নিয়ে চলছে। তাদের অ্যাভিয়েশন জিডিপিতে বড় অবদান রাখছে।’

এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘দেশে ফ্লিটে ১৯টি এয়ারক্রাফট আছে। এর মধ্যে ২টি প্রায় গ্রাউন্ডেড অবস্থা, বাকি ১৭টিও আগামী ১০ বছরের মধ্যে নষ্ট এবসিলিউট হয়ে যাবে। তার মানে আমাদের এয়ারক্রাফট কিনতে হবে। দূরদৃষ্টি না থাকলে দেশ এগোবে কীভাবে।  ২০/২৫ বছর পরের এভিয়েশন খাতের কথা চিন্তা করেই এ চুক্তিগুলো করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী জানান, একনেক সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কিছু ক্রয় সংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বরে আংশিক উদ্বোধন, পুরো সম্পন্ন হতে আরও ৫-৬ মাস সময় লাগতে পারে। 

থার্ড টার্মিনাল চালু হলে জনসাধারণের ভোগান্তি পুরো নিরসন হবে জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘প্লেন থেকে উঠতে নামতে কত সময় লাগবে, ১২-৪০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ আসতে হবে। এগুলো না করতে পারলে টার্মিনাল হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি জরিমানা দেবে।’

মন্ত্রী জানান, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে বিমান কেনার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘কোন জায়গা থেকে কি কিনব সেটা আমাদের নিজস্ব বিষয়। কোন এয়ারক্রাফট আমাদের জন্য উপযুক্ত সেটা চিন্তা করেই কিনছি। যেহেতু সবার আগে বাংলাদেশ, কোথা থেকে কিনলে লাভবান হব, সেটা আমাদের চিন্তা করা উচিৎ। কারো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো কি হলো না– সেটা দেখার বিষয় আমার না। যেখান থেকে কিনলে লাভ হবে সেখান থেকেই কিনব।’

এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘কোনো চাপে কিছু করছি না। প্রয়োজনে কিনছি, ফ্লাইট বাড়ানোর জন্য কিনছি। বিমান বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সকে অনুসরণ করতে চাই।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, অক্টোবরে চুক্তি: বিমানমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ১২:৩১:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার। এ নিয়ে অক্টোবরেই চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী জানান, সব মিলিয়ে ৩৫টি নতুন কেনা এবং বর্তমানে থাকা ১৭টি নিয়ে ৫০টির বেশি এয়ারক্রাফট থাকবে ফ্লিটে। নতুন কেনা বিমানগুলো আসতে ২০৩৬ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত লাগতে পারে। ১০টি এয়ারক্রাফট লিজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে ১৪টি এবং পরে ১১টি, সব মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ পর্যন্ত মোট ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ন্যারো বডি ১১, ওয়াইড বডি ১৪টি। মোট ৬.৪ বিলিয়ন ডলার লাগছে।’

বিমানমন্ত্রী জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম এয়ারক্রাফট আসবে ২০৩১ সালে। একটি হলেও ২০২৭–২৮ সালে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবগুলো বিমান আসতে ২০৩৫-৩৬ সাল লাগবে। আপাতত টাকা এখনই দিতে হচ্ছে না, গ্যারান্টি দিচ্ছি। একটা করে বিমান দেবে তারপর টাকা দেব। এ টাকা ফ্লিটের আয় থেকেই দিতে পারব আশা করি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অ্যাভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করা দরকার। অ্যাভিয়েশন খাত খুবই নাজুক। ইথিওপিয়ার জিডিপিক খাত আমাদের চেয়ে অনেক কম, কিন্তু তাদের এয়ারলাইন্স ১৬৭ ফ্লিট নিয়ে চলছে। তাদের অ্যাভিয়েশন জিডিপিতে বড় অবদান রাখছে।’

এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘দেশে ফ্লিটে ১৯টি এয়ারক্রাফট আছে। এর মধ্যে ২টি প্রায় গ্রাউন্ডেড অবস্থা, বাকি ১৭টিও আগামী ১০ বছরের মধ্যে নষ্ট এবসিলিউট হয়ে যাবে। তার মানে আমাদের এয়ারক্রাফট কিনতে হবে। দূরদৃষ্টি না থাকলে দেশ এগোবে কীভাবে।  ২০/২৫ বছর পরের এভিয়েশন খাতের কথা চিন্তা করেই এ চুক্তিগুলো করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী জানান, একনেক সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কিছু ক্রয় সংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বরে আংশিক উদ্বোধন, পুরো সম্পন্ন হতে আরও ৫-৬ মাস সময় লাগতে পারে। 

থার্ড টার্মিনাল চালু হলে জনসাধারণের ভোগান্তি পুরো নিরসন হবে জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘প্লেন থেকে উঠতে নামতে কত সময় লাগবে, ১২-৪০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ আসতে হবে। এগুলো না করতে পারলে টার্মিনাল হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি জরিমানা দেবে।’

মন্ত্রী জানান, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে বিমান কেনার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘কোন জায়গা থেকে কি কিনব সেটা আমাদের নিজস্ব বিষয়। কোন এয়ারক্রাফট আমাদের জন্য উপযুক্ত সেটা চিন্তা করেই কিনছি। যেহেতু সবার আগে বাংলাদেশ, কোথা থেকে কিনলে লাভবান হব, সেটা আমাদের চিন্তা করা উচিৎ। কারো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো কি হলো না– সেটা দেখার বিষয় আমার না। যেখান থেকে কিনলে লাভ হবে সেখান থেকেই কিনব।’

এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘কোনো চাপে কিছু করছি না। প্রয়োজনে কিনছি, ফ্লাইট বাড়ানোর জন্য কিনছি। বিমান বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সকে অনুসরণ করতে চাই।’

Share this news as a Photo Card