নিউইয়র্ক ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নতুন করে ঢেলে সাজানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • আপডেটের সময় : ১২:২৬:৫৩ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে উল্লেখ করে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়েই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই নতুন বাস্তবতায় প্রবীণদের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ (দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে দেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রবীণ সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

প্রতিপাদ্যটিকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহের অনিবার্য পরিণতি বার্ধক্য। তাই প্রতিটি নাগরিকের বার্ধক্য যেন নিরাপদ, সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদের আলোকে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের নেওয়া নানামুখী কল্যাণমূলক পদক্ষেপ প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রবীণদের অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তারা শুধু অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে।”

তবে প্রবীণদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যহানি, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের প্রতি সহমর্মী ও যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকা অপরিহার্য।

রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও দাতব্য সংগঠন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং একটি শান্তিময় বার্ধক্য উপহার দেওয়া সবার সামাজিক অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নতুন করে ঢেলে সাজানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেটের সময় : ১২:২৬:৫৩ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে উল্লেখ করে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়েই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই নতুন বাস্তবতায় প্রবীণদের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ (দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে দেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রবীণ সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

প্রতিপাদ্যটিকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহের অনিবার্য পরিণতি বার্ধক্য। তাই প্রতিটি নাগরিকের বার্ধক্য যেন নিরাপদ, সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদের আলোকে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের নেওয়া নানামুখী কল্যাণমূলক পদক্ষেপ প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রবীণদের অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তারা শুধু অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে।”

তবে প্রবীণদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যহানি, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের প্রতি সহমর্মী ও যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকা অপরিহার্য।

রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও দাতব্য সংগঠন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং একটি শান্তিময় বার্ধক্য উপহার দেওয়া সবার সামাজিক অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Share this news as a Photo Card