নিউইয়র্ক ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

  • আপডেটের সময় : ০৬:২৬:১৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৬২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় একটি মাদ্রাসায় ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান। রোববার রাতে তাকে নগরীর আড়ংঘাটার থানার শলুয়া হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিশুটির পরিবারিক সূত্র জানায়, দিনমজুর বাবা ছেলে মো. মিরাজুল ইসলামকে হাফেজ বানানোর আশায় স্থানীয় হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। তবে মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিন শিশুটিকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ ও গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন কাজে বাধ্য করতেন। আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হতো। এছাড়া কথায় কথায় তাকে বিভিন্নভাবে শাস্তি প্রদান করা হতো।

শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, মিরাজুল প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসতো। গত রোববার বিকেলে তাকে মাদ্রাসা থেকে আনতে গিয়ে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মাদ্রাসার পাশেই শিকলবন্দী অবস্থায় দেখতে পান শিশুটির নানা।

এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা ও মারধরের ঘটনটি স্বীকার করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা মা রত্না বেগম মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে আসামি করে আড়ংঘাটা থানায় মামলা করেছেন।

আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রোববার রাতে শিকলবন্দী অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

শিক্ষার্থীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

আপডেটের সময় : ০৬:২৬:১৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

খুলনায় একটি মাদ্রাসায় ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান। রোববার রাতে তাকে নগরীর আড়ংঘাটার থানার শলুয়া হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিশুটির পরিবারিক সূত্র জানায়, দিনমজুর বাবা ছেলে মো. মিরাজুল ইসলামকে হাফেজ বানানোর আশায় স্থানীয় হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। তবে মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিন শিশুটিকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ ও গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন কাজে বাধ্য করতেন। আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হতো। এছাড়া কথায় কথায় তাকে বিভিন্নভাবে শাস্তি প্রদান করা হতো।

শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, মিরাজুল প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসতো। গত রোববার বিকেলে তাকে মাদ্রাসা থেকে আনতে গিয়ে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মাদ্রাসার পাশেই শিকলবন্দী অবস্থায় দেখতে পান শিশুটির নানা।

এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা ও মারধরের ঘটনটি স্বীকার করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা মা রত্না বেগম মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে আসামি করে আড়ংঘাটা থানায় মামলা করেছেন।

আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রোববার রাতে শিকলবন্দী অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card