নিউইয়র্ক ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পর পর্তুগালের ইনস্টাগ্রামে কমেছে ৫ লাখের বেশি অনুসারী

  • আপডেটের সময় : ০১:১৩:৫৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচের এক দিন আগে হঠাৎ পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার এমন সিদ্ধান্তের কারণ সময়মতো জানিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই পর্তুগিজ ফুটবলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকাকে জাতীয় দলে অসম্মান করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা।

রোনালদোর দল ছাড়ার এই নজিরবিহীন ঘোষণার প্রভাব সরাসরি পড়েছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রোনালদো সমর্থকেরা দলটির বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল বয়কট’-এর ডাক দেওয়ার পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পর্তুগাল জাতীয় দলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি অনুসারী কমে গেছে।

ক্যাম্প ছাড়ার পূর্বে অনুসারী সংখ্যা দুই কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজারের ঘরে থাকলেও বৃহস্পতিবার নাগাদ তা হ্রাস পেয়ে দুই কোটি ৪৪ লাখে নেমে এসেছে।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল বয়কট’ চলছে জানিয়ে এক রোনালদো সমর্থক মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা পর্তুগালকে অনুসরণ করিনি, আমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনুসরণ করেছি।’ 

ঘটনাবলির সূত্রপাত হয় উয়েফা নেশনস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে, যেখানে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ী ম্যাচে শুরু থেকেই খেলেছিলেন রোনালদো। পরবর্তীতে নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে রোনালদোকে শুরুর একাদশে না নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে পূর্বে সমঝোতা হলেও, ম্যাচের দিন দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ৩০ মিনিট খেলানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে খেলা চলাকালীন কৌশলগত কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত এই ফরোয়ার্ডকে মাঠে নামাননি কোচ।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে দলের অন্য ফুটবলারেরা মাঠে দর্শকদের অভিবাদন জানালেও রোনালদো ক্ষোভ প্রকাশ করে সোজা লকার রুমে চলে যান এবং পরবর্তীতে অনুশীলনে যোগ না দিয়ে ফিরে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পাওলো প্রোয়েনসা, কোচ জেসুস ও রোনালদোকে নিয়ে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোচের এক কড়া সংবাদ সম্মেলনে সেই আলোচনার সম্ভাবনা ভেস্তে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে কোচ জেসুস কঠোর অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট করেন, ‘নিয়ম সবার জন্যই একই। কোচ খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ও অতীত বিবেচনায় নেন। কিন্তু ম্যাচের সময় সবাইকে একইভাবে দেখা হয়। কারও মর্যাদা তাকে আলাদা কোনো অধিকার দেয় না। ক্লাবে সভাপতিই দায়িত্বে থাকেন। জাতীয় দলে আমিই দায়িত্বে। কোনো খেলোয়াড় কখনোই আমার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না। ফুটবলের আর কেউ পারবে না। কোনো সভাপতিও নয়। কখনোই নয়।’

কোচের এই প্রকাশ্য বক্তব্যের পরপরই কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়াম ত্যাগ করে পর্তুগালের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ইনস্টাগ্রামে ঘোষণা করেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পর পর্তুগালের ইনস্টাগ্রামে কমেছে ৫ লাখের বেশি অনুসারী

আপডেটের সময় : ০১:১৩:৫৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ম্যাচের এক দিন আগে হঠাৎ পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার এমন সিদ্ধান্তের কারণ সময়মতো জানিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই পর্তুগিজ ফুটবলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকাকে জাতীয় দলে অসম্মান করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা।

রোনালদোর দল ছাড়ার এই নজিরবিহীন ঘোষণার প্রভাব সরাসরি পড়েছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রোনালদো সমর্থকেরা দলটির বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল বয়কট’-এর ডাক দেওয়ার পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পর্তুগাল জাতীয় দলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি অনুসারী কমে গেছে।

ক্যাম্প ছাড়ার পূর্বে অনুসারী সংখ্যা দুই কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজারের ঘরে থাকলেও বৃহস্পতিবার নাগাদ তা হ্রাস পেয়ে দুই কোটি ৪৪ লাখে নেমে এসেছে।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল বয়কট’ চলছে জানিয়ে এক রোনালদো সমর্থক মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা পর্তুগালকে অনুসরণ করিনি, আমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনুসরণ করেছি।’ 

ঘটনাবলির সূত্রপাত হয় উয়েফা নেশনস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে, যেখানে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ী ম্যাচে শুরু থেকেই খেলেছিলেন রোনালদো। পরবর্তীতে নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে রোনালদোকে শুরুর একাদশে না নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে পূর্বে সমঝোতা হলেও, ম্যাচের দিন দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ৩০ মিনিট খেলানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে খেলা চলাকালীন কৌশলগত কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত এই ফরোয়ার্ডকে মাঠে নামাননি কোচ।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে দলের অন্য ফুটবলারেরা মাঠে দর্শকদের অভিবাদন জানালেও রোনালদো ক্ষোভ প্রকাশ করে সোজা লকার রুমে চলে যান এবং পরবর্তীতে অনুশীলনে যোগ না দিয়ে ফিরে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পাওলো প্রোয়েনসা, কোচ জেসুস ও রোনালদোকে নিয়ে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোচের এক কড়া সংবাদ সম্মেলনে সেই আলোচনার সম্ভাবনা ভেস্তে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে কোচ জেসুস কঠোর অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট করেন, ‘নিয়ম সবার জন্যই একই। কোচ খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ও অতীত বিবেচনায় নেন। কিন্তু ম্যাচের সময় সবাইকে একইভাবে দেখা হয়। কারও মর্যাদা তাকে আলাদা কোনো অধিকার দেয় না। ক্লাবে সভাপতিই দায়িত্বে থাকেন। জাতীয় দলে আমিই দায়িত্বে। কোনো খেলোয়াড় কখনোই আমার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না। ফুটবলের আর কেউ পারবে না। কোনো সভাপতিও নয়। কখনোই নয়।’

কোচের এই প্রকাশ্য বক্তব্যের পরপরই কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়াম ত্যাগ করে পর্তুগালের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ইনস্টাগ্রামে ঘোষণা করেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

Share this news as a Photo Card