ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর ডিজিটাল বাজার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে না পারায় ইউরোপের বাজারে পিছিয়ে যাচ্ছে আইফোনের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচার ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এবং অত্যাধুনিক ‘সিরি’।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, অ্যাপল তাদের নতুন এআই প্রযুক্তিগুলোকে ইইউ-এর নিয়ন্ত্রক ও প্রতিযোগিতা আইনের ভেতরে এনে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে অ্যাপল কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউরোপের সংস্থাগুলো এই প্রযুক্তি চালু করার বিষয়ে তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা বা সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। যার ফলে ইইউভুক্ত দেশগুলোর আইফোন ব্যবহারকারীরা আপাতত এই উন্নত এআই সেবাগুলো থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট বা ডিএমএ মূলত প্রযুক্তি খাতের একচেটিয়া আধিপত্য বা ‘গেটকিপার’ আচরণ বন্ধ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই আইনের একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বা আন্তঃক্রিয়াশীলতা। অর্থাৎ, অ্যাপলকে তাদের অপারেটিং সিস্টেমে যে এআই ফিচারগুলো যুক্ত করবে, সেখানে অন্য থার্ড-পার্টি বা প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির এআই সফটওয়্যারগুলোকেও সমপরিমাণ সুযোগ ও অ্যাক্সেস দিতে হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপল তাদের ইকোসিস্টেমে এই ডেটা শেয়ারিং এবং থার্ড-পার্টি কোম্পানিগুলোকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও সুরক্ষার ঝুঁকির অজুহাত দেখাচ্ছে। অ্যাপলের দাবি, ডিএমএ-এর শর্ত পুরোপুরি মানতে গেলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটার নিরাপত্তা ও ডিভাইসের গোপনীয়তা চরমভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। তবে ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে কোনো বৈষম্যমূলক প্রযুক্তিগত দেওয়াল তৈরি করা যাবে না।
এই আইনি টানাপোড়েনের কারণে আইফোন, আইপ্যাড এবং ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এবং ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি চালিত একদম নতুন রূপের ‘সিরি’ ইউরোপে বন্ধ থাকছে। আইফোন ১৬ সিরিজসহ অন্যান্য সামঞ্জস্যপূর্ণ
ডিভাইসগুলোতে গ্লোবালি এই ফিচারগুলো চালু হলেও ইউরোপের গ্রাহকরা তা পাবেন না ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ অ্যাপলের জন্য অন্যতম শীর্ষ এবং লাভজনক একটি বাজার। সেখানে এই প্রধান ফিচারগুলো বিলম্বিত হওয়ার ফলে আইফোনের নতুন মডেলগুলোর বিক্রি এবং আপগ্রেড করার হার উল্লেখযোগ্যভাবে যেতে পারে। এটি সরাসরি অ্যাপলের বৈশ্বিক রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল নিয়ন্ত্রকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, তারা এই জটিলতা সমাধানের জন্য বারবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারস্থ হলেও ইইউ কমিশন তাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে রাজি হচ্ছে না।
মার্কিন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দুই অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরাচ্ছে। এর আগে মেটা এবং গুগলকেও ইউরোপের মাটিতে তাদের এআই ডেটা ট্রেনিং এবং গোপনীয়তার নিয়ম নিয়ে একই ধরনের কঠোর জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল। অ্যাপল এবং ইইউ শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌছাতে না পারলে ইউরোপের আইফোন ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময়ের জন্য এই এআই বিপ্লবের বাইরে থাকতে হতে পারে।

























