নিউইয়র্ক ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের বিশ্বনাথে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি

  • আপডেটের সময় : ১২:৩৫:১৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে এই আদেশ কার্যকর শুরু হয় এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরে সকাল ৯টা থেকে পুলিশের টহল অব্যাহত আছে। পৌর শহরে যান ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ বিন কাসেমের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ আদেশ জারি করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়, জনশৃঙ্খলার স্বার্থে বিশ্বনাথ পৌরসভার কলেজ রোডস্থ ডাকবাংলো এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, লাঠি বা অস্ত্র বহন এবং পাঁচ বা ততধিক ব্যক্তির গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। সিদ্ধান্তটি কার্যকরের লক্ষ্যে বুধবার রাত থেকেই পৌর শহরে মাইকিং করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লামাকাজী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষ এবং ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজী সফির মিয়ার (৬৫) পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই আজ বিকেল ৩টায় বিশ্বনাথ পৌর শহরের একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক দেয়।

চেয়ারম্যান ধলা মিয়ার পক্ষে উপজেলা ও পৌর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ব্যানারে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। 
অপরদিকে হাজী সফির মিয়ার সমর্থনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। মুখোমুখি এসব কর্মসূচির কারণে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কায় প্রশাসন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, একই এলাকায় একই সময়ে দুই পক্ষের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডাকবাংলো ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাশাপাশি লাঠিসোঁটা ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির যেকোনো ধরনের গণজমায়েতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে ১৪৪ ধারা জারির পর বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে বিশ্বনাথে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারার আদেশ কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সকাল থেকেই মাঠে থাকবে। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান ওসি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সিলেটের বিশ্বনাথে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি

আপডেটের সময় : ১২:৩৫:১৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে এই আদেশ কার্যকর শুরু হয় এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরে সকাল ৯টা থেকে পুলিশের টহল অব্যাহত আছে। পৌর শহরে যান ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ বিন কাসেমের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ আদেশ জারি করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়, জনশৃঙ্খলার স্বার্থে বিশ্বনাথ পৌরসভার কলেজ রোডস্থ ডাকবাংলো এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, লাঠি বা অস্ত্র বহন এবং পাঁচ বা ততধিক ব্যক্তির গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। সিদ্ধান্তটি কার্যকরের লক্ষ্যে বুধবার রাত থেকেই পৌর শহরে মাইকিং করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লামাকাজী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষ এবং ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজী সফির মিয়ার (৬৫) পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই আজ বিকেল ৩টায় বিশ্বনাথ পৌর শহরের একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক দেয়।

চেয়ারম্যান ধলা মিয়ার পক্ষে উপজেলা ও পৌর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ব্যানারে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। 
অপরদিকে হাজী সফির মিয়ার সমর্থনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। মুখোমুখি এসব কর্মসূচির কারণে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কায় প্রশাসন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, একই এলাকায় একই সময়ে দুই পক্ষের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডাকবাংলো ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাশাপাশি লাঠিসোঁটা ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির যেকোনো ধরনের গণজমায়েতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে ১৪৪ ধারা জারির পর বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে বিশ্বনাথে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারার আদেশ কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সকাল থেকেই মাঠে থাকবে। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান ওসি।

Share this news as a Photo Card