নিউইয়র্ক ০৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চ্যাম্পিয়নস লিগেও উড়ছে বার্সেলোনা, এক গোল হজম করেই দিল চার গোল

  • আপডেটের সময় : ০১:১২:৫২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও গালাতাসারাইয়ের মাঠে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোল করেছেন অ্যান্থনি গর্ডন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতে টানা ১০ ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে কাতালান ক্লাবটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে গালাতাসারেই’র বিপক্ষে তাদের মাঠেই একপেশে আধিপত্য দেখাল কাতালানরা। ৭১ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি গোলের জন্য ২২ শট নিয়ে তারা ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে। বিপরীতে গালাতাসারেই’র পাঁচ শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল তিনটি। 

স্বাগতিকরা অবশ্য ম্যাচের ২৮ মিনিটেই লিড নিয়েছিল অ্যালেক্সি বাত্রাকভের গোলে। পিছিয়ে পড়া কাতালানরা অবশ্য সমতায় ফিরতে সময় নেয় ১৫ মিনিটে। জোয়াও ক্যান্সেলোর সেই গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে একবার করে জালে বল জড়ালেন ফারমিন লোপেজ, অ্যান্থনি গর্ডন ও কারিম আদেইয়েমি। গোলশূন্য হলেও ইয়ামাল করেন দুটি অ্যাসিস্ট।

যথারীতি বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার কাজটা শুরু থেকেই চালিয়ে গেছে সফরকারী বার্সেলোনা। সাত মিনিটে মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েছিলেন দলটির মিডফিল্ডার দানি ওলমো। তবে তার শট রুখে দেন গোলরক্ষক, সহকারী রেফারি অফসাইড জানালেও রিপ্লেতে স্প্যানিশ তারকাকে অনসাইডে দেখা যায়। ১৬ মিনিটে পেদ্রির উঁচু করে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গর্ডন বুক দিয়ে নামিয়ে শট নিলেও অনায়াসে আটকান গালাতাসারেই গোলরক্ষক। এরপর ওলমোর আরেকটি হেড যায় বাইরে দিয়ে।

ধারার বিপরীতে পাল্টা আক্রমণে উঠে গালাতাসারেই লিড পেয়ে যায় ২৮ মিনিটে। রাফায়েল লেয়াও গোলমুখে বল বাড়ালে বাত্রাকভের শট ক্যান্সেলোর গায়ে লেগে দিক পাল্টে বার্সার জালে জড়ায়। তিন মিনিট পর স্বাগতিকরা ব্যবধান দ্বিগুণ করলেও অফসাইডে সেটি কাটা পড়ে। ৪৩তম বার্সাকে সমতায় ফেরান ক্যান্সেলো। ওলমোর শট অফসাইডে থাকা গর্ডন ছেড়ে দিলে পেছন থেকে এসে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার দূরের পোস্টে ঠিকানা খুঁজে নেন।

বিরতির পর বার্সেলোনা আবির্ভূত হয় নতুন রূপে। প্রথম বিশ মিনিটের মধ্যেই করে তিন গোল। ৫০ মিনিটে কর্নার থেকে ফিরে আসা বল বক্সে ক্রস করেন ইয়ামাল। কাছ থেকে হেডে গোল করেন ফেরমিন লোপেজ।

তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ে ইয়ামালের আরেকটি সরাসরি অবদানে। পেদ্রির পাস পেয়ে গোললাইন থেকে বল মাঠে রেখে সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডনকে পাস দেন তিনি। গর্ডনের শটে স্কোরলাইন হয় ৩-১।

এরপর ৬৫ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন করিম আদেয়েমি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে বল তাঁর সামনে এলে একটুও গতি না কমিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান এই জার্মান ফরোয়ার্ড।

শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ইয়ামালের ক্রস থেকে আদেয়েমির ভলি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন গালাতাসারাইয়ের রোলান্ড সালাই। এরপর ইয়ামালের পাসে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের শটও ঠেকান গোলরক্ষক উগুরজান চাকির। তবে আর গোল হয়নি। ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। 

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। দুই ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা ৯, আর শতভাগ জয়ের রেকর্ডও অক্ষুণ্ন রয়েছে।

এর আগে, লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল দলটি। 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বাতিল

সৌদি আরব ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

১৪ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

চ্যাম্পিয়নস লিগেও উড়ছে বার্সেলোনা, এক গোল হজম করেই দিল চার গোল

আপডেটের সময় : ০১:১২:৫২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও গালাতাসারাইয়ের মাঠে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোল করেছেন অ্যান্থনি গর্ডন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতে টানা ১০ ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে কাতালান ক্লাবটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে গালাতাসারেই’র বিপক্ষে তাদের মাঠেই একপেশে আধিপত্য দেখাল কাতালানরা। ৭১ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি গোলের জন্য ২২ শট নিয়ে তারা ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে। বিপরীতে গালাতাসারেই’র পাঁচ শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল তিনটি। 

স্বাগতিকরা অবশ্য ম্যাচের ২৮ মিনিটেই লিড নিয়েছিল অ্যালেক্সি বাত্রাকভের গোলে। পিছিয়ে পড়া কাতালানরা অবশ্য সমতায় ফিরতে সময় নেয় ১৫ মিনিটে। জোয়াও ক্যান্সেলোর সেই গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে একবার করে জালে বল জড়ালেন ফারমিন লোপেজ, অ্যান্থনি গর্ডন ও কারিম আদেইয়েমি। গোলশূন্য হলেও ইয়ামাল করেন দুটি অ্যাসিস্ট।

যথারীতি বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার কাজটা শুরু থেকেই চালিয়ে গেছে সফরকারী বার্সেলোনা। সাত মিনিটে মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েছিলেন দলটির মিডফিল্ডার দানি ওলমো। তবে তার শট রুখে দেন গোলরক্ষক, সহকারী রেফারি অফসাইড জানালেও রিপ্লেতে স্প্যানিশ তারকাকে অনসাইডে দেখা যায়। ১৬ মিনিটে পেদ্রির উঁচু করে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গর্ডন বুক দিয়ে নামিয়ে শট নিলেও অনায়াসে আটকান গালাতাসারেই গোলরক্ষক। এরপর ওলমোর আরেকটি হেড যায় বাইরে দিয়ে।

ধারার বিপরীতে পাল্টা আক্রমণে উঠে গালাতাসারেই লিড পেয়ে যায় ২৮ মিনিটে। রাফায়েল লেয়াও গোলমুখে বল বাড়ালে বাত্রাকভের শট ক্যান্সেলোর গায়ে লেগে দিক পাল্টে বার্সার জালে জড়ায়। তিন মিনিট পর স্বাগতিকরা ব্যবধান দ্বিগুণ করলেও অফসাইডে সেটি কাটা পড়ে। ৪৩তম বার্সাকে সমতায় ফেরান ক্যান্সেলো। ওলমোর শট অফসাইডে থাকা গর্ডন ছেড়ে দিলে পেছন থেকে এসে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার দূরের পোস্টে ঠিকানা খুঁজে নেন।

বিরতির পর বার্সেলোনা আবির্ভূত হয় নতুন রূপে। প্রথম বিশ মিনিটের মধ্যেই করে তিন গোল। ৫০ মিনিটে কর্নার থেকে ফিরে আসা বল বক্সে ক্রস করেন ইয়ামাল। কাছ থেকে হেডে গোল করেন ফেরমিন লোপেজ।

তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ে ইয়ামালের আরেকটি সরাসরি অবদানে। পেদ্রির পাস পেয়ে গোললাইন থেকে বল মাঠে রেখে সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডনকে পাস দেন তিনি। গর্ডনের শটে স্কোরলাইন হয় ৩-১।

এরপর ৬৫ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন করিম আদেয়েমি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে বল তাঁর সামনে এলে একটুও গতি না কমিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান এই জার্মান ফরোয়ার্ড।

শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ইয়ামালের ক্রস থেকে আদেয়েমির ভলি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন গালাতাসারাইয়ের রোলান্ড সালাই। এরপর ইয়ামালের পাসে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের শটও ঠেকান গোলরক্ষক উগুরজান চাকির। তবে আর গোল হয়নি। ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। 

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। দুই ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা ৯, আর শতভাগ জয়ের রেকর্ডও অক্ষুণ্ন রয়েছে।

এর আগে, লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল দলটি। 

Share this news as a Photo Card