কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবারও আঘাত হেনেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। রেকর্ড ছোঁয়া তাপমাত্রা, উচ্চ আর্দ্রতা এবং বায়ুর মানের অবনতিতে দুর্ভোগে পড়েছেন কোটি কোটি মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কানাডার একাধিক প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার অন্টারিও, কুইবেকের একটি অংশ, ম্যানিটোবা ও নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজসহ কয়েকটি প্রদেশে চরম তাপমাত্রার সতর্কতা বহাল রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে তাপপ্রবাহটি পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বুধবার পর্যন্ত কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গরম অব্যাহত থাকতে পারে।
কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। রেকর্ড না হলেও তীব্র গরমে জনজীবন ব্যাহত হয়। গরমে রেললাইনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় উপশহরগামী ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। একই সঙ্গে এনভায়রনমেন্ট কানাডা সতর্ক করে জানিয়েছে, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বায়ুর মান আরও খারাপ হতে পারে।
এদিকে মধ্য ও পূর্ব কানাডায় কয়েক দিনের মধ্যে একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বজ্রঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই ধরনের আবহাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের কিছু এলাকাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলোসহ বিভিন্ন শহরেও বুধবার পর্যন্ত তাপপ্রবাহের সতর্কতা বহাল রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শিকাগোতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, নিউইয়র্কে প্রায় ৩৮ ডিগ্রি এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মন্টানার বিলিংস শহরে তাপমাত্রা ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে দেয়। একইভাবে ইউটাহর সল্ট লেক সিটিতেও ১০৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা শহরটির আগের সর্বোচ্চ রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির পূর্ব উপকূল ও মিডওয়েস্ট অঞ্চলে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। তখন প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম গরমে আক্রান্ত হন এবং অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। প্রচণ্ড গরমের কারণে ওয়াশিংটন ডিসির স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডসহ বেশ কয়েকটি আয়োজনও বাতিল করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন, তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়া আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
সূত্র: বিবিসি



















