নিউইয়র্ক ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলোনি আমার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন: ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ০৮:৫৬:২৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে চলমান ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক বিরোধের জের ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অদ্ভুত মিম বা ছবি শেয়ার করে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। 

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠকের ঠিক আগ মুহূর্তে আশি বছর বয়সী ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মেলোনি তার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত এবং এই কারণে তার সুরক্ষায় এখন ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ জারি করা প্রয়োজন। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উনপঞ্চাশ বছর বয়সী মেলোনির সঙ্গে একটি সম্পাদিত বা এডিট করা ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে ইতালির এই ডানপন্থী নেত্রী ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। ট্রাম্প সেই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন’। 

ওই একই সময়ে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং মিশেল ওবামার একটি বিকৃত ছবিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাদের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানের গায়ে গ্রাফিতি বা ব্যঙ্গচিত্র আঁকা ছিল।

তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে জোটের অন্য বত্রিশটি সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ট্রাম্প ও মেলোনি উভয়েরই উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সভার ঠিক আগে ট্রাম্পের এই আচরণ দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বের এই দুই প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতার মধ্যকার বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল গত সপ্তাহে, যখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে সাম্প্রতিক জি-সেভেন বা গ্রুপ অব সেভেন সম্মেলনের সময় মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘বারবার’ অনুরোধ করেছিলেন এবং এক প্রকার ভিক্ষা বা অনুনয়-বিনয় করেছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন।

অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ এবং বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইতালির সংবাদ সংস্থা আদনক্রোনোস-এর বরাত দিয়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল রেতে ফোর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ইতালি এবং আমি কখনোই কারও কাছে ভিক্ষা বা অনুনয় করি না’।

মেলোনি আরও উল্লেখ করেন যে তিনি আমেরিকার বিরোধী নন এবং অতীতে যেমন কারও সামনে হাঁটু গেড়ে বসেননি, আজকেও বসবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন যে পশ্চিমা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলে শক্তিশালী হয় এবং ইতালি সেই শক্তিশালী ঐক্যের অংশ হিসেবেই কাজ করে চলেছে। তবে যেকোনো টেকসই ও মজবুত সম্পর্ক সবসময় স্পষ্টবাদিতার ওপর নির্ভর করে এবং তিনি নিজে একজন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী মানুষ বলে দাবি করেন।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপে শামিল হতে এবং ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করতে ইতালি অনীহা প্রকাশ করার পর থেকেই এই দুই দেশের ডানপন্থী শীর্ষ নেতার মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। ইউরোপের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের ক্রমাগত সমালোচনা এবং এই সমস্যাগুলো সমাধান না করলে ইউরোপের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে বলে ট্রাম্পের দেওয়া বিবৃতির কারণে এই ফাটল আরও গভীর হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মেলোনি আমার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন: ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০৮:৫৬:২৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে চলমান ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক বিরোধের জের ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অদ্ভুত মিম বা ছবি শেয়ার করে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। 

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠকের ঠিক আগ মুহূর্তে আশি বছর বয়সী ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মেলোনি তার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত এবং এই কারণে তার সুরক্ষায় এখন ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ জারি করা প্রয়োজন। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উনপঞ্চাশ বছর বয়সী মেলোনির সঙ্গে একটি সম্পাদিত বা এডিট করা ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে ইতালির এই ডানপন্থী নেত্রী ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। ট্রাম্প সেই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন’। 

ওই একই সময়ে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং মিশেল ওবামার একটি বিকৃত ছবিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাদের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানের গায়ে গ্রাফিতি বা ব্যঙ্গচিত্র আঁকা ছিল।

তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে জোটের অন্য বত্রিশটি সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ট্রাম্প ও মেলোনি উভয়েরই উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সভার ঠিক আগে ট্রাম্পের এই আচরণ দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বের এই দুই প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতার মধ্যকার বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল গত সপ্তাহে, যখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে সাম্প্রতিক জি-সেভেন বা গ্রুপ অব সেভেন সম্মেলনের সময় মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘বারবার’ অনুরোধ করেছিলেন এবং এক প্রকার ভিক্ষা বা অনুনয়-বিনয় করেছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন।

অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ এবং বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইতালির সংবাদ সংস্থা আদনক্রোনোস-এর বরাত দিয়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল রেতে ফোর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ইতালি এবং আমি কখনোই কারও কাছে ভিক্ষা বা অনুনয় করি না’।

মেলোনি আরও উল্লেখ করেন যে তিনি আমেরিকার বিরোধী নন এবং অতীতে যেমন কারও সামনে হাঁটু গেড়ে বসেননি, আজকেও বসবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন যে পশ্চিমা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলে শক্তিশালী হয় এবং ইতালি সেই শক্তিশালী ঐক্যের অংশ হিসেবেই কাজ করে চলেছে। তবে যেকোনো টেকসই ও মজবুত সম্পর্ক সবসময় স্পষ্টবাদিতার ওপর নির্ভর করে এবং তিনি নিজে একজন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী মানুষ বলে দাবি করেন।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপে শামিল হতে এবং ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করতে ইতালি অনীহা প্রকাশ করার পর থেকেই এই দুই দেশের ডানপন্থী শীর্ষ নেতার মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। ইউরোপের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের ক্রমাগত সমালোচনা এবং এই সমস্যাগুলো সমাধান না করলে ইউরোপের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে বলে ট্রাম্পের দেওয়া বিবৃতির কারণে এই ফাটল আরও গভীর হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card