নিউইয়র্ক ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘রাস্তা আগেই ভালা আচিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকটার’

  • আপডেটের সময় : ০৬:৩৪:১২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
  • ২৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সংস্কারের আশায় স্বস্তির অপেক্ষায় ছিলেন এলাকাবাসী। কিন্তু উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার পর উল্টো বেড়েছে দুর্ভোগ। আগে সড়কের তিনটি স্থানে খানাখন্দ থাকলেও এখন পুরো চার কিলোমিটার সড়কজুড়েই কাদা, গর্ত ও জমে থাকা পানিতে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে চলাচল। বর্ষার বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের জামালপুর বাজার থেকে দোলনবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক এখন স্থানীয়দের ভোগান্তির প্রধান কারণ। সামান্য বৃষ্টিতেই কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত—তা বোঝা দায় হয়ে পড়ে। মোটরসাইকেলের চাকা গর্তে আটকে যাচ্ছে, অটোরিকশা দুলে উঠছে, আর পথচারীরা কাদা এড়িয়ে চলতে গিয়ে পড়ছেন বিপাকে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই এ সড়ক ব্যবহার করছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুর বাজার সংলগ্ন চাতালের সামনে, বাবুর বাড়ির কাছে এবং জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সামনের অংশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এসব স্থান সংস্কারের লক্ষ্যে চলতি বছরের ৮ মে সড়ক উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন।

গাজীপুর জেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৫ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাজধানীর ইস্কাটন দিলু রোডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারকাজের শুরুতে পুরো সড়কের পুরোনো পিচ তুলে ফেলা হলেও এরপর কাজের গতি অনেকটাই থেমে গেছে। কোথাও ইট ও বালুর স্তূপ থাকলেও অধিকাংশ স্থানে শ্রমিকের দেখা মেলেনি। টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পানি জমে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।

দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে অটোরিকশাচালক ওসমান সরকার ও আক্তার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা আগেই ভালো আছিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকদার। আগে তিন জায়গায় সমস্যা আছিল, এখন পুরো রাস্তাই সমস্যা। তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করলে মানুষের কষ্ট কমবে।’

স্থানীয় মোটরসাইকেল আরোহী মাহফুজুর রহমান, ইজিবাইকচালক এছহাক ও পথচারী এবাইদুল্লাহ বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং রোগীবাহী যানবাহন চলাচল করে। বর্তমান অবস্থার কারণে সময় নষ্টের পাশাপাশি যানবাহনের ক্ষতি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, সড়কটির উন্নয়নকাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং সংসদ সদস্য এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী এমরান হোসেন বলেন, মাঠপর্যায়ে যিনি কাজ দেখছেন, তিনি পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক বলেন, প্রায় ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ চলছে। টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পরপর দুইবার লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, জনগণের চলাচলে যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেই কাজ পরিচালনা করতে হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। ঝুলে থাকা উন্নয়নকাজ নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী না হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘রাস্তা আগেই ভালা আচিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকটার’

আপডেটের সময় : ০৬:৩৪:১২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

সংস্কারের আশায় স্বস্তির অপেক্ষায় ছিলেন এলাকাবাসী। কিন্তু উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার পর উল্টো বেড়েছে দুর্ভোগ। আগে সড়কের তিনটি স্থানে খানাখন্দ থাকলেও এখন পুরো চার কিলোমিটার সড়কজুড়েই কাদা, গর্ত ও জমে থাকা পানিতে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে চলাচল। বর্ষার বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের জামালপুর বাজার থেকে দোলনবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক এখন স্থানীয়দের ভোগান্তির প্রধান কারণ। সামান্য বৃষ্টিতেই কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত—তা বোঝা দায় হয়ে পড়ে। মোটরসাইকেলের চাকা গর্তে আটকে যাচ্ছে, অটোরিকশা দুলে উঠছে, আর পথচারীরা কাদা এড়িয়ে চলতে গিয়ে পড়ছেন বিপাকে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই এ সড়ক ব্যবহার করছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুর বাজার সংলগ্ন চাতালের সামনে, বাবুর বাড়ির কাছে এবং জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সামনের অংশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এসব স্থান সংস্কারের লক্ষ্যে চলতি বছরের ৮ মে সড়ক উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন।

গাজীপুর জেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৫ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাজধানীর ইস্কাটন দিলু রোডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারকাজের শুরুতে পুরো সড়কের পুরোনো পিচ তুলে ফেলা হলেও এরপর কাজের গতি অনেকটাই থেমে গেছে। কোথাও ইট ও বালুর স্তূপ থাকলেও অধিকাংশ স্থানে শ্রমিকের দেখা মেলেনি। টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পানি জমে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।

দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে অটোরিকশাচালক ওসমান সরকার ও আক্তার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা আগেই ভালো আছিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকদার। আগে তিন জায়গায় সমস্যা আছিল, এখন পুরো রাস্তাই সমস্যা। তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করলে মানুষের কষ্ট কমবে।’

স্থানীয় মোটরসাইকেল আরোহী মাহফুজুর রহমান, ইজিবাইকচালক এছহাক ও পথচারী এবাইদুল্লাহ বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং রোগীবাহী যানবাহন চলাচল করে। বর্তমান অবস্থার কারণে সময় নষ্টের পাশাপাশি যানবাহনের ক্ষতি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, সড়কটির উন্নয়নকাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং সংসদ সদস্য এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী এমরান হোসেন বলেন, মাঠপর্যায়ে যিনি কাজ দেখছেন, তিনি পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক বলেন, প্রায় ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ চলছে। টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পরপর দুইবার লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, জনগণের চলাচলে যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেই কাজ পরিচালনা করতে হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। ঝুলে থাকা উন্নয়নকাজ নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী না হয়।

Share this news as a Photo Card