নিউইয়র্ক ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাঁথিয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩৭ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : ০৬:৩৬:০৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
  • ২৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার খলিশাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা বিভাগ।

অভিযোগকারী আলম হোসেন জানান, তার মেয়ে ছুম্মা খাতুন বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৯ জুলাই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হালিমা খাতুন ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে তার মেয়ের ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। সারা রাত ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার পর পরদিন তিনি মেয়েকে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মোন্নাফুর রহমানের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করান। এখনও তার মেয়ের হাত পুরোপুরি সুস্থ হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে গত ২৭ জুলাই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে আলোচনা হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাশাপাশি অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও তিনি অভিভাবক ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হালিমা খাতুন বলেন, তিনি বাঁশের লাঠি নয়, বাঁশের কঞ্চি দিয়ে শিক্ষার্থীদের শাসন করেছিলেন। আহত শিক্ষার্থীকে তিনি নিজেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বহন করেন বলেও দাবি করেন।

তবে তিনি সাংবাদিকদের অর্থ দেওয়ার যে দাবি করেছেন, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বুলবুলি খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আহত শিক্ষার্থীকে তার বাবা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন।

সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ বিলাল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সাঁথিয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩৭ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০৬:৩৬:০৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার খলিশাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা বিভাগ।

অভিযোগকারী আলম হোসেন জানান, তার মেয়ে ছুম্মা খাতুন বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৯ জুলাই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হালিমা খাতুন ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে তার মেয়ের ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। সারা রাত ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার পর পরদিন তিনি মেয়েকে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মোন্নাফুর রহমানের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করান। এখনও তার মেয়ের হাত পুরোপুরি সুস্থ হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে গত ২৭ জুলাই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে আলোচনা হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাশাপাশি অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও তিনি অভিভাবক ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হালিমা খাতুন বলেন, তিনি বাঁশের লাঠি নয়, বাঁশের কঞ্চি দিয়ে শিক্ষার্থীদের শাসন করেছিলেন। আহত শিক্ষার্থীকে তিনি নিজেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বহন করেন বলেও দাবি করেন।

তবে তিনি সাংবাদিকদের অর্থ দেওয়ার যে দাবি করেছেন, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বুলবুলি খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আহত শিক্ষার্থীকে তার বাবা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন।

সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ বিলাল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card