নিউইয়র্ক ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত মোজাফফরের ফেসবুক-মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটার কাছে চিঠি

  • আপডেটের সময় : ০৭:২৪:৩৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ২৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে প্ল্যাটফর্মটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পেতে এবং মুছে ফেলা বার্তাগুলো উদ্ধারের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা মেটার কাছে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোজাফফর হোসেন তার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গেও তার কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। এসব বার্তা সংগ্রহ এবং মুছে ফেলা কথোপকথন পুনরায় উদ্ধারের জন্যই মেটার কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফরের সঙ্গে ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। পলাতক থাকা অবস্থায় মোজাফফর বেশ কয়েকবার প্রতিবেশী দেশে যাতায়াত করেছেন। চিফ প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১৬ বছর ধরে তিনি মাসুদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন।

দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৬ জুলাই মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গত ২৩ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি)। একই মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে হেফাজতে রয়েছেন। প্রসঙ্গত, মাসুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নানা ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের অনুমতি দেওয়া হলেও তদন্ত সংস্থা এখনো সেই প্রক্রিয়া শুরু করেনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত মোজাফফরের ফেসবুক-মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটার কাছে চিঠি

আপডেটের সময় : ০৭:২৪:৩৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে প্ল্যাটফর্মটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পেতে এবং মুছে ফেলা বার্তাগুলো উদ্ধারের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা মেটার কাছে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোজাফফর হোসেন তার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গেও তার কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। এসব বার্তা সংগ্রহ এবং মুছে ফেলা কথোপকথন পুনরায় উদ্ধারের জন্যই মেটার কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফরের সঙ্গে ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। পলাতক থাকা অবস্থায় মোজাফফর বেশ কয়েকবার প্রতিবেশী দেশে যাতায়াত করেছেন। চিফ প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১৬ বছর ধরে তিনি মাসুদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন।

দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৬ জুলাই মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গত ২৩ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি)। একই মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে হেফাজতে রয়েছেন। প্রসঙ্গত, মাসুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নানা ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের অনুমতি দেওয়া হলেও তদন্ত সংস্থা এখনো সেই প্রক্রিয়া শুরু করেনি।

Share this news as a Photo Card