নিউইয়র্ক ০৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হাতিয়ায়, তলিয়ে গেছে নিচু এলাকা

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতির প্রভাবে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ, দমকা হাওয়া এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের উত্তাল রূপ মিলিয়ে থমকে গেছে পুরো দ্বীপ উপজেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বে থাকা টেলিপ্রিন্টার অপারেটর মোহাম্মদ বাবলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হাতিয়ায় ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

হাতিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা বর্ষণে রেকর্ড পরিমাণ পানি নেমে এসেছে। টানা বৃষ্টির প্রভাবে উপজেলার নিচু এলাকা, স্থানীয় গ্রামীণ সড়ক, বিভিন্ন বাজার এবং বসতবাড়ির আঙিনায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে চর ঈশ্বর, তমরদ্দি, চরকিং, সুখচর, নলচিরা এবং জাহাজমারা ইউনিয়নের প্রধান প্রধান পথগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা। কাজ বন্ধ থাকায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের স্বাভাবিক সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

কৃষিশ্রমিক ও মৎস্য চাষিরা জানান, অতিবর্ষণে আমন ধানের বীজতলা, বর্ষাকালীন সবজি খেত এবং বহু মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে ভেসে গেছে। হঠাৎ জলাবদ্ধতায় মৎস্য খাতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সাগর উত্তাল থাকায় এবং দমকা বাতাসের কারণে উপকূলীয় এলাকায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাতিয়া থেকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী চ্যানেলগুলোতে সার্ভিস ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিচু এলাকার মানুষকে অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলা ও জরুরি সহায়তার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।  

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

খাবারের নিম্নমান ও ট্রলিং নিয়ে নিউইয়র্কের রাফা স্পাইসি কটেজ ঘিরে প্রবাসীদের ক্ষোভ

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনায় ইসরায়েল সম্মতি দেয়নি: নেতানিয়াহু

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হাতিয়ায়, তলিয়ে গেছে নিচু এলাকা

আপডেটের সময় : ০৫:০৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতির প্রভাবে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ, দমকা হাওয়া এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের উত্তাল রূপ মিলিয়ে থমকে গেছে পুরো দ্বীপ উপজেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বে থাকা টেলিপ্রিন্টার অপারেটর মোহাম্মদ বাবলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হাতিয়ায় ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

হাতিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা বর্ষণে রেকর্ড পরিমাণ পানি নেমে এসেছে। টানা বৃষ্টির প্রভাবে উপজেলার নিচু এলাকা, স্থানীয় গ্রামীণ সড়ক, বিভিন্ন বাজার এবং বসতবাড়ির আঙিনায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে চর ঈশ্বর, তমরদ্দি, চরকিং, সুখচর, নলচিরা এবং জাহাজমারা ইউনিয়নের প্রধান প্রধান পথগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা। কাজ বন্ধ থাকায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের স্বাভাবিক সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

কৃষিশ্রমিক ও মৎস্য চাষিরা জানান, অতিবর্ষণে আমন ধানের বীজতলা, বর্ষাকালীন সবজি খেত এবং বহু মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে ভেসে গেছে। হঠাৎ জলাবদ্ধতায় মৎস্য খাতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সাগর উত্তাল থাকায় এবং দমকা বাতাসের কারণে উপকূলীয় এলাকায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাতিয়া থেকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী চ্যানেলগুলোতে সার্ভিস ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিচু এলাকার মানুষকে অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলা ও জরুরি সহায়তার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।  

Share this news as a Photo Card